ক্যাকটাস গোত্রের ড্রাগন ফল বাংলাদেশেও এখন প্রচুর পাওয়া যাচ্ছে। দেশেই উৎপাদন হচ্ছে। দামও হাতের নাগালেই বলা যায়। ড্রাগন ফলের তিনটি প্রজাতি রয়েছে লাল ড্রাগন ফল বা পিটাইয়া, কোস্টারিকা ড্রাগন ফল এবং হলুদ ড্রাগন ফল। লাল ড্রাগন ফলের খোসার রঙ লাল কিন্তু শাঁস সাদা। এ প্রজাতির ফলই বাংলাদেশে বেশি দেখা যায়। কোস্টারিকা ড্রাগন ফলের খোসা ও শাঁসের রঙ লাল। হলুদ ড্রাগন ফলের খোসা হলুদ রঙের কিন্তু শাঁসের রঙ সাদা।
মিষ্টি স্বাদের ফলবিশিষ্ট ড্রাগন গাছে ফুল ফোটে রাতে যা দেখতে অনেকটা নাইট কুইন ফুলের মতো, লম্বাটে, সাদা ও হলুদ। এই ফল দেখতেও অত্যন্ত আকর্ষণীয় এবং এটি কাঁচা অবস্থাতেই খাওয়া হয়। বিদেশি এই ফল চাষ করা খুব সহজ। কাটিং লাগালেই গাছ হয়ে গাছ। বাড়ির ছাদে ড্রাম/বালতিতে/গ্রো ব্যাগে কিংবা মাটিতে অনায়াসে লাগানো যায় এবং আমাদের দেশের আবহাওয়ায় দারুণ হয় এই ড্রাগন ফল।
এতে ক্যালোরির পরিমাণ কম থাকে তাই ‘ডায়েট’ এর জন্য উত্তম। ডায়াবেটিস ও হৃদরোগীরা খেতে পারেন অনায়াসেই। ড্রাগন ফলে প্রচুর ভিটামিন সি থাকার ফলে এই ফল খেলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে ও ত্বক হয়।
ড্রাগন ফলের পুষ্টিমান
খাওয়ার উপযোগি প্রতি ১০০ গ্রামে ড্রাগনে আছে,
পানি – ৮০-৯০ গ্রাম
শর্করা – ৯-১০ গ্রাম
প্রোটিন – ০.১৫-০.৫ গ্রাম
আঁশ – ০.৩৩-০.৯০ গ্রাম
খাদ্যশক্তি – ৩৫-৫০ কিলোক্যালরি
চর্বি – ০.১০-০.৬ গ্রাম
ক্যালসিয়াম – ৬-১০ মি গ্রাম
আয়রন – ০.৩-০.৭ মি.গ্রাম
ফসফরাস – ১৬-৩৫ গ্রাম
ক্যারোটিন – (Vitamin A থায়ামিন, রিবোফ্লাবিন সামান্য
ভিটামিন – বি-৩ – ০.২ – ০.৪মিগ্রাম
ড্রাগন ফলের উপকারিতা
১. ক্যারোটিন সমৃদ্ধ থাকায় সুস্থ চোখের উন্নয়ন করে।
২. আঁশ বেশি থাকায় হজম শক্তি বৃদ্ধি করে।
৩. আঁশ শরীরের চর্বি কমায়।
৪. এর প্রোটিন শরীরের বিপাকীয় কাজে সহায়তা করে।
৫. ক্যালসিয়াম হাড় শক্ত ও সুস্থ দাঁত তৈরি করে।
৬. ভিটামিন-বি-১ কার্বহাইড্রেট বিপাক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শক্তি উৎপন্ন করে।
৭. ভিটামিন বি-৩ রক্তের কোলেস্টেরল কমায় এবং ত্বক মসৃণ রাখে।
৮. ভিটামিন সি শরীরের কাটা, ভাঙা জোড়া লাগাতে সাহায্য করে।
৯. ভিটামিন বি-২ শরীরে ক্ষুধা তৃষ্ণা, যৌন বাসনা, প্রভৃতি মিটানোর আকাঙক্ষা উন্নয়ন ও পূরণে সাহায্য করে।
১০. ফসফরাস বেশি থাকায় কোষ কলা গঠনে সাহায্য করে।
ওষুধি গুন
রক্তের চাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
তাইওয়ানে ডায়াবেটিসের রোগীরা ভাতের পরিবর্তে এ ফল প্রধান খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে।
ফলটিতে ফাইটো অ্যালবুমিন, এন্টি অ্যঙিডেন্ট থাকে যা ক্যান্সারের কারণ ফ্রি রেডিক্যাল তৈরিতে বাধা দেয়।
এ ফল খেলে রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
ক্রনিক আন্ত্রিক সমস্যার সমাধান করে।
লিভারের জন্য খুবই উপযোগী।
গবেষণায় জানা গেছে এই ফল নিয়মিত খেলে ওজন কমে এবং শরীরের সৌন্দর্য বাড়ে।

1 Trackback / Pingback