বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু দাবি করেছেন যে, পুলিশের দিয়ে নয়, বরং বাজারে পণ্যের সরবরাহ বৃদ্ধি করে দাম কমানো হচ্ছে। রোজার সময় এই পদ্ধতি সফল হয়েছে বলে প্রমাণিত। যদি আমরা বিকল্প সরবরাহের ব্যবস্থা করতে পারি, তাহলে কয়েকজনের চেষ্টায়ও বাজারের ব্যবস্থাপনা বিনষ্ট হবে না।
মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) কারওয়ান বাজারের টিসিবি ভবনের সামনে ভারত থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজের বিক্রয় কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তাঁর বক্তব্যে তিনি এই তথ্য জানান।
তিনি আরও বলেন, টিসিবির মাধ্যমে আমরা পেঁয়াজ, ডাল, চিনি, তেল ইত্যাদি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাফার স্টক গড়ে তুলছি, যা বাজারে পণ্যের বিকল্প সরবরাহ বৃদ্ধি করবে।
ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, ভারতে নির্বাচন আসন্ন এবং কৃষকরা বিদ্রোহ করেছেন, তাই তারা সকল দেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ রেখেছেন। তবুও, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং প্রতিবেশী দেশের সাথে ভালো সম্পর্কের কারণে তারা আমাদেরকে পেঁয়াজ সরবরাহ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, পেঁয়াজ আনার ক্ষেত্রে আমাদের অনেক ঝুঁকি ছিল। যখন ভারত থেকে অনুমতি পেলাম, তখনও আমরা দ্বিধায় ছিলাম যে দেশে পেঁয়াজের দাম কমবে কিনা এবং রোজা শেষ হওয়ার আগে পেঁয়াজ পৌঁছাবে কিনা। তবুও আমরা এই ঝুঁকি নিয়েছি এবং আমি মনে করি এটি সাধারণ মানুষের জন্য ভালো ফল বয়ে আনবে।
ভারত এবং কৃষকের মাঠ থেকে পেঁয়াজ বাজারে আসার ফলে দ্রুত কমছে পেঁয়াজের দাম। এক সপ্তাহ আগের পাইকারি দামে এখন খুচরা বাজারে পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ৩৮ টাকায় নেমে এসেছে।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, হঠাৎ সরবরাহ বৃদ্ধির ফলে প্রতিদিন পেঁয়াজের দাম কমছে। রাজধানীর শ্যামবাজার ও কারওয়ান বাজারের মতো বড় বাজারগুলোতে পেঁয়াজের আড়তগুলো পেঁয়াজে পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, বস্তাগুলো থরে থরে সাজানো হয়েছে। তবে বাজারে ক্রেতার সংখ্যা অনেক কম।
পাইকারি বাজারে বর্তমানে পেঁয়াজের দাম ৩৮ থেকে ৪২ টাকা প্রতি কেজি। এক সপ্তাহ আগে পেঁয়াজের দাম ছিল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। খুচরা ব্যবসায়ীরা এখন এই দামেই ভোক্তাদের কাছে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন।
অন্যদিকে, ভারত থেকে আমদানি করা ১৬৫০ টন পেঁয়াজ ঢাকা, গাজীপুর এবং চট্টগ্রামের ১৮০টি স্থানে আজ মঙ্গলবার থেকে বিক্রি শুরু করেছে সরকারের ট্রেডিং কর্পোরেশন অফ বাংলাদেশ (টিসিবি)। টিসিবি ডিলাররা ভোক্তাদের কাছে ৪০ টাকা প্রতি কেজিতে এই পেঁয়াজ বিক্রি করছেন।
গত রোববার বিকেলে ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজের চালানটি চুয়াডাঙ্গার দর্শনা স্টেশনে পৌঁছেছে। পরের দিন সোমবার ভোর ৬টায় চালানটি সিরাজগঞ্জে পৌঁছায় এবং সেখান থেকে ট্রাকে করে ঢাকা, গাজীপুর ও চট্টগ্রামে পেঁয়াজ পাঠানো হচ্ছে ডিলারদের মাধ্যমে।
ভারত থেকে আমদানি করা ১৬৫০ টন পেঁয়াজ ঢাকার ১০৩টি, চট্টগ্রামের ৫৫টি এবং গাজীপুরের ২২টি স্পটে টিসিবি বিক্রি করবে। এটি ভারত সরকারের প্রতিশ্রুত ৫০ হাজার টন পেঁয়াজ রপ্তানির প্রথম চালান। বাকি ৪৮,৩৫০ টন পেঁয়াজ রোজার ঈদের পর ধাপে ধাপে দেশে পৌছাবে বলে জানিয়েছে টিসিবি।

Be the first to comment