বাংলাদেশে দিনে দিনে চাষ বাড়ছে রঙীন ফুলকপির চাষ। এরইমধ্যে বিভিন্ন জেলায় এই ফুলকপি চাষে সাফল্য পেয়েছেন কৃষকরা। বাজারে আসার পর সাধারণ মানুষেরও দৃষ্টি কাড়ছে এই রঙীন ফুলকপি।
টাঙ্গাইল জেলায় রঙ্গীন ফুলকপি চাষ করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন গোপালপুর উপজেলার বরুরিয়া গ্রামের কৃষক রিপন মিয়া।
দুই বছর আগে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরি ছেড়ে রিপন মিয়া সাত বন্ধুকে নিয়ে সেভেন স্টার এগ্রো ফার্ম নামে চার একর জমিতে ফুলকপি, শশা, চিচিঙ্গা, মিষ্টি কুমড়ার চাষ শুরু করেন। এ বছর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে জামালপুর থেকে দুই হাজার রঙ্গীন ফুলকপির চারা সংগ্রহ করে, ২০ শতাংশ জমিতে সাদা ফুলকপির পাশাপাশি বেগুনি ও হলুদ রঙের ফুলকপির চাষ করেন।
এতে তার সেচ, পরিবহন ও জৈব, রাসায়নিক সারের খরচ বাবদ ব্যয় হয়েছে ১২ হাজার টাকা। রঙ্গীন ফুলকপি ব্যাপক চাহিদা থাকায় ৭০-৮০টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে এবং প্রতিটি কপির ওজন হয়েছে দেড় থেকে ২ কেজি। এতে ১ লাখ টাকার উপরে বিক্রি হবে বলে জানান রিপন।
রিপন বলেন, কৃষি প্রজেক্ট শুরুর পর রঙ্গিন ফুলকপি চাষে সবচেযে বেশি লাভবান হয়েছেন। প্রতিদিন গ্রামের ৫/৬জন নারী কাজ করছে এই কৃষি খামারে। রিপন বলছেন, মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পেরেছি এটাও আমার আনন্দ। দুর দূরান্ত থেকে প্রতিদিন অনেক কৃষক আগ্রহ নিয়ে নতুন এই ফুলকপি দেখতে আসছেন। অনেকেই আগামীতে এই কপি চাষের আগ্রহী দেখাচ্ছেন। ধনবাড়ী ও মধুপুরের আড়তে এগুলো বিক্রি করা হয়।
এগ্রো ফার্ম’র কর্মচারী আ. লতিফ জানান, যখন এগুলো বাজারে নিয়ে যাই, সবাই তামাশা দেখতে আসে এতে অনেক আনন্দ পাই। চাষাবাদের কাজে সহায়তা করা রহিমা বেগম বলেন, এই কপি অনেক ভালো সেদ্ধ হয় ও স্বাদও ভালো। প্রতিদিন অনেক মানুষ এগুলো দেখতে আসছেন। বরুরিয়া গ্রামের কৃষক লুৎফর রহমান তালুকদার বলেন, আগামী বছর আমিও এই রঙ্গিন ফুলকপি চাষে আগ্রহী। যদি উপজেলা কৃষি অফিস থেকে চারা পাই তবে আমিও রঙ্গিন ফুলকপি চাষ করবো।
গোপালপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামীমা আক্তার বলেন, রঙ্গীন ফুলকপির মধ্যে বিটা কেরোটিন এবং এন্টি অক্সডিন্টে থাকার কারণে স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারি। আগামীতে এই কপির চাষাবাদ বাড়াতে কৃষককে প্রয়োজনীয় সব ধরণের পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করা হবে।
এ জাতের কপি রোপণের ৮০/৮৫ দিনের মধ্যে বিক্রি করা যায় এবং সাধারণ কপির মতোই চাষাবাদ করতে হয় । শুধু জৈব সার বেশি প্রয়োগ করতে হয়।
শেরপুরের নালিাতাবাড়ী উপজেলায় পাহাড়ি অঞ্চলে অনেক ধরনের শাকসবজির দেখা মেলে শীতকালে। মুলা, গাজর, শিম, টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপিসহ বিভিন্ন ধরনের শাকসবজির চাষ হয় এ উপজেলায়। এবার দেখা মিললো একটু ব্যতিক্রমধর্মী রঙিন ফুলকপির চাষ। কোনোটির রঙ হলুদ আবার কোনোটির রঙ বেগুনি।কোনো রকম কীটনাশক ছাড়াই চাষ হচ্ছে এসব রঙিন ফুলকপি।
৩৩ শতাংশ জমিতে রঙিন ফুলকপি চাষ করেছেন এক কৃষক। নালিতাবাড়ী উপজেলার বাঘবের ইউনিয়নের শিমূলতলা এলাকায় প্রথমবারের মতো রঙিন ফুলকপি চাষে সফলতা পাওয়ায় আগামীতে আরও বড় পরিসরে এ রঙিন ফুলকপি চাষ করবেন বলে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি।
কৃষক সিরাজের রঙিন ফুলকপির সৌন্দর্য উপভোগ করতে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত অনেকেই আসেন তার জমিতে । সিরাজ জানান, সাধারণ হল্যান্ড জাতীয় সাদা ফুলকপি চাষ করে অর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।তাই প্রথম দিকে আমি সাধারণ বাঁধাকপি ও ফুলকপিই চাষ করতে চেয়েছিলাম। পরে মনে হলো একটু চাষ করেই দেখি রঙিন কপি কেমন হয়। পরে ৩৩ শতাংশ জমিতে চাষ করি।
সিরজা জানান, যেখানে হলুদ রঙের ফুলকপি ১২শ পিস, এর সাথে অল্প বাঁধাকপিও রোপণ করি। কোনো প্রকার কীটনাশক ব্যবহার ছাড়াই এগুলো চাষ করেছেন বলে জানান তিনি। প্রতিটি রঙিন ফুলকপির ওজন এক থেকে দুই কেজি পর্যন্ত হয়েছে। বাজারে পাইকারি ৬০-৭০ টাকা পিস হিসেবে ফুলকপি বিক্রি করছি। আমার ৩৩ শতাংশ জমির সবগুলো কপি বিক্রি করতে পারলে ৭০ থেকে৮০ হাজার টাকার মতো বিক্রি হবে বলে আমি আশাবাদী।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওয়াদুদ জানান, আকর্ষণীয় সবজিগুলোর মধ্যে রঙিন কপি নিঃসন্দেহে একটি আকর্ষণীয় সবজি। রঙিন কপি চাষে বর্তমানে কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে। সেইসাথে মানবদেহের জন্য সাদা রঙের ফুলকপির চেয়ে এ রঙিন ফুলকপি অনেক পুষ্টিকর। অন্যদিকে কৃষক সিরাজের রঙিন ফুলকপি চাষের প্রচার প্রচারণার ফলে ভোক্তা ও বিক্রেতাদের মাঝে ক্রয়-বিক্রয়ে আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। । কীটনাশক ছাড়াই চাষাবাদ করা যাচ্ছে এ রঙিন কপি । এতে কৃষকেরা লাভবান হবেন। আশা করি আগামীতেএ সবজি চাষের পরিমাণও বাড়বে।
জায়পুরহাট জেলায় প্রচুর পরিমানে উচ্চ পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ সবজি বেগুনী ফুলকপির বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে। সদর উপজেলার ভাদসা ইউনিয়নের কৃষক আমেদ আলী বেগুনী ফুলকপির চাষ করে বাম্পার ফলনের পাশাপাশি লাভবান হওয়ার স্বপ্ন বুনছেন ।
অন্যান্য ফুলকপির মতোই এ বেগুনী জাতের ফুলকপির চাষ পদ্ধতি। স্বল্প সময়ের ফসল হিসেবে নতুন জাতের এ ফুলকপি চাষে আমেদ আলীর সফলতা দেখে এলাকায় এখন অনেকেই এই বেগুনি ফুলকপি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
কৃষক আমেদ আলী জয়পুরহাট সদর উপজেলার ভাদসা ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা হলেও বেগুনী ফুলকপি চাষ করে এলাকায় তাক লাগিয়েছেন। আমেদ আলী জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ১৫ শতাংশ জমিতে বেগুনি ফুলকপির চাষ করছেন। গত বছরের মতো এবারও বেগুনী ফুলকপি চাষে তিনি সফলতার পাশাপাশি দাম ভালো পেয়ে খুশি বলেও জানান তিনি । বর্তমান বাজারে প্রতি পিস বেগুনী ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা।

Be the first to comment