মজুরের অভাবে যখন কৃষিকাজ এখন ব্যয়বহুল। অনেক সময় দিনমজুর না পাওয়ায় ধান কাটার অভাবে ক্ষেতে নষ্ট হওযার খবর পাওয়া যায় বিভিন্ন সময়, সেসময় মানিক গঞ্জের সিংগাইরে ধান কাটার জন্য নতুন কম্বাইন্ড হারভেস্টার ব্যহার কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমিয়ে দিয়েছে প্রায় অর্ধেক। চলতি আমন মৌসুমে সেখানে ধানের ফলনও হয়েছে ভালো।
ঘাম ঝরানো স্বপ্নের সেই ফসল ঘরে তুলে আনতে কৃষক কৃষানী এখন প্রস্তুতি নিচ্ছে। অনুকূল আবহাওয়া, সঠিক পরিচর্যা, কৃষকদের প্রশিক্ষণ, উন্নত ও উচ্চ ফলনশীল বীজ এবং মাঠ পর্যায়ে তদারকির কারণে চলতি রোপা আমন মৌসুমে মানিকগঞ্জের সিংগাইরে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। সেই সঙ্গে ধান কাটায় যুক্ত হয়েছে কম্বাইন্ড হারভেস্টার। এখানকার কৃষিতে লেগেছে যন্ত্রের ছোঁয়া।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ১১ টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভায় ২ হাজার ৭’শ ৯০ হেক্টর জমিতে রোপা এবং ৪ হাজার ২ ’শ হেক্টর জমিতে বোনা আমনের আবাদ হয়েছে। যা থেকে প্রায় ১৪ হাজার মে.টন ধান উৎপাদন হবে ।
পৌর সদরের আজিমপুর দক্ষিণ পাড়া মহল্লার আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী হাসিনা বেগম (৩৫) জানান, প্রতি বছর দেড় বিঘা জমিতে ধানের আবাদ করি। গত বছর ধান কাটতে লেবার খুঁজতে হিমসিম খেয়েছি। এবার মুহুর্তের মধ্যে মেশিনে আমার ধান কেটে দিলো। এতে আমার ঝামেলাও কম হলো, টাকাও বাঁচলো।
একই মহল্লার কৃষক রবিউল মীর (৪৫) বলেন, ৩ বিঘা জমিতে রোপা আমন ধান চাষ করেছি। ফলন হয়েছে ভালো। তিনি আরো বলেন, আগে ১ বিঘা জমির ধান
কাটা ও মাড়াই করতে লেবার খরচ হতো ৬ হাজার টাকা। এবার ২ হাজার টাকায় ওই পরিমাণ জমির ধান কেটে দিচ্ছে মেশিন। কৃষি ক্ষেত্রে যন্ত্রের ব্যবহার ধানের উৎপাদন খরচ প্রায় অর্ধেক কমিয়ে দিয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
এ ব্যাপারে সিংগাইর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ টিপু সুলতান স্বপন বলেন, চলতি বছর ফসলের ক্ষেতে কোনো রোগ বালই আক্রমন না করায় লক্ষ মাত্রার চেয়ে অধিক ধান উৎপাদন হবে। তিনি আরো বলেন, আমাদের কৃষি এনালগ থেকে ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করছে। কৃষিতে আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে কৃষকের শ্রম ও উৎপাদন খরচ কমে আসবে।

Be the first to comment