গ্রামের হাটে আমের দাম। মাথায় হাত বাগানিদের

নাটোরের গ্রাম্য বাজারগুলোতে পাকা লকনা আম বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১২ থেকে ১৪ টাকা কেজি। আমের দাম নিম্নমুখী হওয়ার কারণে মৌসুমী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত পড়েছে। শুধু লকনা নয় প্রতিটি জাতের আমের দামই খুব কম।

বুধবার বিকালে নাটোর সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের সাপ্তাহিক হাটে খুচরা লকনা আম বিক্রি হয়েছে ১২-১৪ টাকা কেজি, গোপালভোগ আম বিক্রি হয়েছে ২০-২৫ টাকা কেজি, হিমসাগর বা ক্ষিরসাপাত আম বিক্রি হয়েছে ৩৫-৪০ টাকা কেজি দরে।

আমের এমন নিম্নমুখী দাম হওয়ার কারণে মৌসুমী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। আমরা সেখানকার স্থানীয় একজন আম বিক্রেতার সাথে কথা বলেছি। তিনি বলেন, আমরা প্রতিবছর আমের মৌসুমে ছোট ছোট বাগান কিনে ব্যবসা করি। এবছর শুরুতে ভালো দাম হওয়ার আভাস পাওয়া গেলেও এখন আমরা আমের দাম পাচ্ছি না। করোনার জন্য আম বাহিরেও পাঠাতে পারছি না । তাই বাধ্য হয়ে গ্রামের বাজারগুলোতে কম দামে  বিক্রি করছি।

আমের দাম  নিম্নমুখী হওয়ার কারণ জানতে চেয়ে আমরা নাটোরের জনপ্রিয় কৃষি উদ্যোক্তা রুহুল আমিনের সাথে কথা বলি। তিনি কৃষি জীবন’কে বলেন, এবছর আবহাওয়া জনিত নানা প্রতিকূলতার পরেও মোটামুটি ভালো আম টিকেছে। কিন্তু আম পাকার শুরুতেই মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবও বৃদ্ধি পেয়েছে। আর সরকারের বেঁধে দেওয়া নানা বিধি-নিষেধের কারণে আম ব্যবসায়ীদের আম পরিবহনে ব্যঘাত ঘটছে। ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন জায়গায় আম পাঠাতে পারছেনা। তাই তারা বাধ্য হয়ে স্থানীয় বাজার গুলোতে কম দামে আম বিক্রি করছেন।

উল্লেখ্য, প্রতিবছর আমের মৌসুমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আমের বাগান কিনে থাকেন। আর এবছর নানা কারণে আমের দাম অনেক কম হওয়ার কারণে অনেক লোকসানের আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের এই লোকসান কিছুটা হলেও কাটিয়ে তুলতে  ব্যবসায়ীদের জন্য কৃষি প্রণোদনার ব্যবস্থা করার দাবি স্থানীয়দের।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*