সতেজ চারা থাকা সত্ত্বেও ব্যবসা মন্দা

নার্সারিতে আছে মাল্টা, কমলা, আম, পেয়ারা, লেবু, করমচার চারা গাছ, যা রয়েছে ছোট–বড় টব ও প্লাস্টিকের বস্তায়। ফলনও হয়েছে গাছে গাছে। ফলের ভারে ছোট ছোট ডালগুলো মাটিতে নুয়ে পড়েছে। জবা, রঙ্গন, গোলাপ, মালতির চারাগাছেও নানান রঙের ফুল। সে দৃশ্য প্রশান্তি জাগায় মনে। ভিন্ন কেবল এর মালিকদের অনুভূতি।

ক্রেতার অভাবে দিনাজপুর শহরের বিভিন্ন নার্সারির এসব চারাগাছ বিক্রি হচ্ছে না। তাতেই বিপাকে পড়েছেন নার্সারির মালিকেরা। তাঁরা বলছেন, বছরে চারা বিক্রির দুটি মৌসুম। নভেম্বর থেকে জানুয়ারিতে ফুল আর জুন-আগস্টে ফল। এ মৌসুমেই চারা বেশি বিক্রি হয়। করোনা পরিস্থিতি আর বিধিনিষেধের কারণে বেচাবিক্রি এখন অর্ধেকের নিচে। বৃক্ষমেলার আয়োজন ও বিক্রি বাড়ার সম্ভাবনাও দেখছেন না তারা।

দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় মোট নার্সারি রয়েছে ২০২টি। এর মধ্যে কৃষি বিভাগের সরকারি নার্সারি ১৩টি, বাকিগুলো ব্যক্তিমালিকানাধীন। এসব নার্সারিতে ফুল-ফল-বনজ ও ঔষধি চারাগাছ রয়েছে ৩০ লাখের বেশি। অন্যদিকে দিনাজপুর বন বিভাগ অফিস সূত্রে জানা গেছে, বন বিভাগের নিজস্ব নার্সারি রয়েছে ১৫টি। যেখানে ৩ লাখের বেশি চারাগাছ আছে। কয়েক বছর আগে জেলায় ব্যক্তিমালিকানাধীন নার্সারি ছিল ৪২৭টি।

সদর উপজেলার নয়নপুর এলাকায় রানা নার্সারিতে গিয়ে দেখা যায়, হরেক রকম ফুল, ফল ও বনজ গাছের সমাহার। করমচা, আম, পেয়ার, মাল্টা, কমলার চারাগাছে ফল ধরেছে। কয়েকজন শ্রমিক মেহগনিগাছের চারা তুলে গোড়ায় নতুন মাটি লাগিয়ে পাটের সুতলি দিয়ে বাঁধছেন। দুপুরের পরে ভ্যানে করে বিভিন্ন গ্রামে নিয়ে বিক্রি করা হবে মেহগনির চারাগুলো। মাঝেমধ্যে দু-একজন ক্রেতা আসছেন, চারা কিনছেন।

নার্সারির মালিক আজম খান ৩৫ বছর ধরে নার্সারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তাঁর নার্সারিতে দেশি গাছের পাশাপাশি, আপেল, ড্রাগন, থাই পেয়ারা, ভিয়েতনামি মাল্টা, সিডলেস কুল, রেড লেডি পেঁপেসহ সব মিলিয়ে প্রায় ১৫ হাজারের বেশি চারাগাছ। আজম খান বলেন, করোনার কারণে তেমন বেচাবিক্রি নেই। গত বছর বৃক্ষমেলার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলেন, মেলা হয়নি। এবারও হবে না। বছরে যেখানে বিক্রি হতো ১০ লাখ টাকার চারাগাছ,  এর অর্ধেকও গত দুই বছর যাবত বিক্রি হচ্ছে না।

পৌরসভা কার্যালয়–সংলগ্ন সবুজ বনায়ন অ্যাগ্রো নার্সারি। বীরগঞ্জ, ঈদগাহ বস্তি এলাকাতেও এই নার্সারির আরও দুটি শাখা। মালিক বিশ্বনাথ সিং বলেন, তিনটি ইউনিটে ২৫ হাজারের বেশি দেশি-বিদেশি ফুল-ফল ও বনজ গাছ। এগুলো বিক্রি করতে না পারলে খুবই লোকসানে পড়তে হবে। এতগুলো চারাগাছের যত্ন নিতেও বেশ খরচ হয়।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*