হেক্টর প্রতি ব্রি হাইব্রিড-৭ ধানের উৎপাদন ৭ মেট্রিক টন!

ব্রি হাইব্রিড-৭ ধান।

এক হেক্টর জমিতে সাধারণত সর্বোচ্চ ৩ মেট্রিক টন আউশ ধান উৎপাদন হয়। চালের হিসাব ধরলে আনুমানিক ২ দশমিক ৬ মেট্রিক টন। সেখানে ভোলার এক কৃষি খামারে ফলন হয়েছে ৭ মেট্রিক টন ধান। ওই খামারে আবাদ হয়েছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উৎপাদিত নতুন জাত ব্রি হাইব্রিড-৭।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আসাদুল্লাহ আউশের এই ফলনকে ‘অবিশ্বাস্য, কিন্তু ঘটনা বাস্তব’ বলেছেন। তাঁর ভাষ্যমতে, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার এই দেশে তাঁরা যদি এ রকম ফলন পেয়ে যান, তাহলে অর্ধেক, কিংবা ৮০ শতাংশ জমিতে আবাদ করে খাদ্যের চাহিদা পূরণ করতে পারবেন। বাকি জমিতে তেল, ডালসহ অন্যান্য ফসল উৎপাদন করা যাবে।

কৃষি বিভাগ বলছে, ভোলার মাটিতে সব ফসল ভালো হয়। সে বিবেচনায় জেলার একটি খামারকে নতুন জাতের আউশ ধান প্রথম আবাদের জন্য বেছে নিয়েছিল তারা। প্রায় ৮০ একর জমি নিয়ে ওই সবুজ বাংলা কৃষি খামার গঠিত। এর অবস্থান ভোলার সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের চরমনষা গ্রামে। খামারের মালিক ইয়ানুর রহমান মোল্লা ওরফে বিপ্লব মোল্লা এ বছর প্রায় ১৬ একরে ব্রি হাইব্রিড-৭ ধানের আবাদ করেছেন।

গত ২৮ জুলাই সকালে সরেজমিন দেখা যায়, খামারের চারটি ব্লকে নতুন জাতের আউশ ধানের আবাদ হয়েছে। পাকা সোনালি ধানের ভারে গাছ মাটির দিকে ঝুলে গেছে। বাতাসে সেগুলো দোল খাচ্ছে। একটি গাছে কয়েকটি ধানের ছড়া। ধানের আকার লম্বা ও চিকন। কম্বাইন্ড হারভেস্টর যন্ত্রে কাটা হচ্ছিল খেতের ধান। কাটা-মাড়াই শেষে ধান বস্তায় ভরে মেপে নিচ্ছিলেন ব্যাপারীরা।

ইয়ানুর রহমান বলেন, পেঁয়াজ চাষে সার লেগেছিল। তাই ধানের আবাদে বাড়তি সার দিতে হয়নি। গত বছরও তা–ই করেছিলেন তিনি। তবে সেবার বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাইব্রিড জাতের ধানের আবাদ করেছিলেন। এবারও ওই জাতের ধানই খুঁজছিলেন। একপর্যায়ে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের পরামর্শে ব্রি উদ্ভাবিত নতুন জাতের ধানের আবাদ করেন। মাত্র ১২০ দিনে ধান পেকে যায়। ১১২ দিনের মাথায় ধান কাটা শুরু করেন।

ভোলা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রিয়াজউদ্দিন বলেন, জেলায় এই প্রথম ব্রি হাইব্রিড-৭ জাতের ধানের আবাদ হলো। এলাকার অন্য কৃষকেরাও আগামী মৌসুম থেকে এই জাতের ধানের আবাদ করবেন।

ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এনায়েতউল্লাহ বলেন, ইয়ানুরের খামারে ১৬ একর জমিতে পরীক্ষামূলক নতুন জাতের আউশের আবাদ হয়েছে। মৌসুমের প্রথম দিকে আবহাওয়া অনুকূল না থাকায় সেচ দিতে হয়েছে। তবু হেক্টরে ৭ মেট্রিক টন ধান ফলেছে। ভবিষ্যতে হয়তো এই জাতের আবাদে ফলন আরও বেশি হবে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*