পেয়ারা কেনো খাবেন: পেয়ারার পুষ্টিগুন ও উপকারিতা

অতি পিরিচিত ফল পেয়ারা। দুনিয়ায় পেয়ারার প্রায় ১০০টিরও বেশি প্রজাতি আছে। মেক্সিকো, মধ্য আমেরিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া প্রভৃতি স্থানে পেয়ারা বেশি জন্মে। অনুমান করা হয় ১৭শ শতাব্দীতে পেয়ারা আসে। এটি একটি পুষ্টিকর ফল। এটি ভিটামিন সি, ক্যারোটিনয়েডস, ফোলেট, পটাশিয়াম, আঁশ এবং ক্যালসিয়াম প্রভৃতিতে সমৃদ্ধ।

পেয়ারা বর্ষাকালের ফল হলেও এখন সারাবছরই বাজারে পাওয়া যায়।বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতার জন্য পেয়ারা ‘সুপার ফ্রুট’ নামেও পরিচিত। আজকে চলুন জেনে নিই পেয়ারার পুষ্টিগুন ও উপকারিতা সম্পর্কে।

কি কি খাদ্য উপাদান আছে

পেয়ারা ভিটামিন সি’র ভালো উৎস। পেয়ারাতে প্রচুর ভিটামিন ‘সি’ আছে ৷ ১০০ গ্রাম পেয়ারায় ১৮০ মি.গ্রাম ভিটামিট ‘সি’। = ভিটামিন সি মুখগহব্বর, দাঁত ও মাড়ি সুস্থ রাখে। পাশাপাশি বিপাকেও সাহায্য করে।

সাধারণত ফলে ভিটামিন এ, সরাসরি পাওয়া যায় না; এটি প্রথমে ক্যারোটিন রূপে থাকে পরবর্তিতে তা ভিটামিন এ’তে রূপান্তরিত হয়। ক্যারোটিন শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করে। চোখের রেটিনা ও কোষের সুস্থতা বজায় রাখতে এটি সাহায্য করে।

প্রতি ১০০ গ্রাম পেয়ারায় ০.২১ মি.গ্রা ভিটামিন বি ১ ও ০.০৯ মি.গ্রা বি ২ পাওয়া যায়। এইসব ভিটামিনের অভাবে বেরিবেরি ও মুখের ঘা জনিত নানারকম অসুখ হতে পারে।

প্রতি ১০০ গ্রাম পেয়ারায় ৭৬ কিলোক্যালরি খাদ্যশক্তি পাওয়া যায়। উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে খাদ্য শক্তি পেতে প্রতি দিন একটি পেয়ারা খাওয়া যেতে পারে।

প্রতি ১০০ গ্রাম পেয়ারায় ১.৪ গ্রাম প্রোটিন ও ১.১ গ্রাম স্নেহ পাওয়া যায়।

প্রতি ১০০ গ্রাম পেয়ারায় পাওয়া যায় ১৫.২ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট। এটি শরীরের আভ্যন্তরীণ কার্যকলাপে সাহায্য করে। তাছাড়া ফলের পেকটিন ও সেলুলোজ রক্তের কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে।

পেয়ারা নানারকম খনিজ উপাদানে ভরপুর। প্রতি ১০০ গ্রাম পেয়ারায় ০.৬ গ্রাম মিনারেল, ০.০৩ মি.গ্রাম থায়ামিন, ০.০৩ রিবোফ্লেভিন ১.৪ মি.গ্রাম আয়রন, ২৮ মি.গ্রাম ফসফরাস ও ২০ মি.গ্রাম ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়।

কী উপকার

নানান পুষ্টিগুণে ভরপুর পেয়ারা শরীরের সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

ফলটি ঠান্ডা কাশির পথ্য। তাছাড়া শ্বাসতন্ত্র, গলা ও ফুসফুসকে ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে সুরক্ষা করে।

রক্তসঞ্চালন ঠিক রাখে তাই হার্টের রোগিরা পেয়ারা খেতে পারেন৷

পেয়ারাতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘এ’ রয়েছে। যা দৃষ্টি শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।

পাকা পেয়ারা কোষ্ঠকাঠিন্য দূরে সহায়ক।
যেকোন ব্যকটেরিয়া সংক্রমণ বা পেটের গোলযোগে কার্যকরী। এই ফলটিতে অ্যাস্ট্রিজেন্ট ও অ্যান্টি-মাইক্রোবাল উপাদান থাকে যা পাকস্থলীর স্বাস্থ্য ভাল রাখতেসাহায্য করে।

ত্বক ভাল রাখার সঙ্গে ত্বককে টানটান রাখে।
পেয়ারা ডায়বেটিস, ক্যান্সার, প্রস্টেট ক্যান্সারের মতো রোগ প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা রাখে৷

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*