মেহেরপুরে লিচু চাষিদের মুখে হাসি

জেলার ৩৫০ হেক্টর জমির বাগানগুলোর গাছে-গাছে এখন টসটসে রসালো টকটকে লাল থোকা-থোকা লিচু ঝুলছে। গাছের লিচু দেখে পথচারীদের প্রাণ জুড়িয়ে যাচ্ছে। বাগান মালিক ও লিচু ব্যবসায়ীদেরও মনে-প্রাণেও আনন্দের জোয়ার। করোনাভাইরাসের এই দূর্যোগে চাষিরা বাজারজাত করার বিষয়ে শঙ্কিত ছিলো, তাই এমন ভালো দাম পাওয়াটা আশা করেননি তারা। কিন্তু কাঁচামাল পরিবহণের ক্ষেত্রে বাঁধা না থাকায় ভালো দামে লিচু বিক্রি করে লাভবান হওয়ায় ফুটে উঠেছে তাদের মুখে হাসির ঝিলিক।

দুইযুগ ধরে মেহেরপুরের গাংনীর ফরিদুল ইসলাম লিচুর চাষ করে আসছেন। প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে দু‘একবছর লিচুর চাষে বিপর্যয় দেখেছেন। গাছে তরতাজা লিচু নিয়েও এবার করোনার কারণে তার কপালে দেখা দিয়েছিল চিন্তার ভাজ। এখন সেই ভাজ হারিয়ে গেছে ভালো দাম মেলাতে। ফরিদুলের মতো মেহেরপুরের লিচু চাষিরা আশংকা করছিলো এবার করোনার কারণে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। ভেঙে যাবে লিচু চাষে স্বপ্ন বাস্তবায়নের। কিন্তু বিপরীতটাই মিলছে।

সদর উপজেলার যাদবপুর গ্রামের লিচু চাষি হামিদুল ইসলামের লিচু বাগানে দেখা যায়, গাছে লিচু পেকে মানুষের দৃষ্টি কাড়ছে। তিনি জানান- গাছে পাকা লাল লিচু দেখে মন জুড়িয়ে যাচ্ছে। ক্রেতা সংকটে লিচু গাছেই নষ্ট হবে বলে মনে করেছিলেন। কিন্তু বাইরের ব্যাপারিরা এসে প্রতিদিন মেহেরপুরের লিচু নিয়ে যাচ্ছে। কাচাঁমালের কারণে পথেও পুলিশের কোন বাধা নেই। তিনি আরও জানান- এলাকার চাষিদের কাছ থেকে যে সকল ব্যবসায়ী আগেই লিচু বাগান কিনে নিয়েছেন এবছর তারা মূলধন তুলতে পারবেন বলে শঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন।

আম-লিচুর বাগান ক্রেতা বজলুর রহমান জানান, বেশ কয়েকটি আম-লিচুর বাগান কেনা আছে। ব্যাপক যত-আত্মিতে গাছে-গাছে আম আর লিচুতে ভরে আছে। গতবছর প্রতি হাজার লিচু ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা দামে বিক্রি করতে হয়েছে। এবার প্রতি হাজার লিচু ১৬০০ থেকে ১৮০০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে।

মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কামরুল হক মিয়া জানান- চলতি মৌসুমে মেহেরপুর অঞ্চলে ৩৫০ হেক্টর জমিতে লিচুর বাগান আছে। প্রতি হেক্টরে ৮ টন হারে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা আছে। স্থানীয় মোজাফ্ফর জাতের আটি লিচু খুব সুমিষ্ট। ফলন ভালো হয়েছে। ভালো দামও পাচ্ছেন চাষিরা।

সূত্রঃ বাসস

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*