পেয়াজের বিকল্প হতে পারে চিভ। শুরু হয়েছে চাষ।

পেয়াজের বিকল্প চিভ

দেড় মাসের বেশি সময় ধরে দেশের পেঁয়াজের বাজার অস্থির। হু হু করে বাড়ছে এর দাম। দিনে তিনবারও বেড়েছে দাম। দেশের সর্বকালের রেকর্ড ভেঙে দাম উঠেছে ২৮০ টাকা কেজি পর্যন্ত।
লাগাম টেনে ধরতে পারছে না খোদ সরকারও।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারত রফতানি বন্ধ করে দেয়াই পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, দেশে পেঁয়াজের তেমন ঘাটতি নেই। সিন্ডিকেটের কারণে পেঁয়াজের বাজারে এমন পরিস্থিতি।

এসব কথা নিয়ে রাজনীতির মাঠেও বীরদর্পে বিচরণ করছে পেঁয়াজ। সংসদ উত্তাল পেঁয়াজ কথনে। বিরোধী দলীয় নেতারা বিষয়টি সরকারের ব্যর্থতা দাবি করে বিষবাক্য নিক্ষেপ করছেন।
এদিকে মধ্যবিত্ত ও নিম্মবিত্তরা পেঁয়াজের ঝাঁঝে মরণ দশা। গত দুই দিন ধরে হালিতে পেঁয়াজ কিনতে দেখা গেছে দেশের বিভিন্ন বাজারে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই রান্নায় পেঁয়াজ ব্যবহার করবেন না বলে পোস্ট দিচ্ছেন।

বিভিন্ন জন ফেসবুকে ট্রল করছেন,পেয়াজ ছাড়া কীভাবে রান্না করা যায়। পেয়াজ ছাড়া কি কি রেসিপি আছে এসব নিয়ে। পেয়াজের বিকল্প কোন মসলা কি আছে? এমন সময় কিছুটা আশার খবর দিলেন কৃষি গবেষকরা। পেয়াজের বিকল্প এক মসলার চাষ করার খবর জনালেন তারা। এই মসলা জাতীয় ফসলটি রাম চিভ।

চিভের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সারা বছর চাষ করা যায়। একবার রোপণ করলে একই গাছ থেকে সারা বছর ফসল মেলে।

গাজীপুরের কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউ বারির মশলা গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. নূর আলম চৌধুরী বলেন, চিভের স্বাদ অনেকটা পেঁয়াজের মত। বাংলাদেশে এই মশলার চাষযোগ্য উচ্চফলনশীল জাত ‘বারি চিভ-১’ ইতোমধ্যেই অবমুক্ত করা হয়েছে।

এর পাতা লিনিয়ার আকৃতির, ফ্ল্যাট, কিনারা মসৃণ, বাল্ব লম্বাটে। এর ফুল সাদা-পার্পল বর্ণের। বৈজ্ঞানিক নাম Allium tuberosum, এটি অ্যামারাইলিডেসি (Amaryllidaceae) পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। উৎপত্তিস্থল সাইবেরিয়ান-মঙ্গোলিয়ান ও নর্থ-চায়না অঞ্চল।
ড. আলম বলেন, চারা লাগানোর ৬৫-৭০ দিনের মধ্যে ফসল সংগ্রহ শুরু হয়। এর পাতা, কাণ্ড ও কাঁচা ফুল মশলা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। একবার পাতা-কাণ্ড কেটে নিলে আবার গজায়। বাড়ির আঙিনায় বা টবেও চাষ করা যায়।

বগুড়াসহ কয়েকটি এলাকায় কৃষকদের মাধ্যমে এর চাষ সম্প্রসারণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চাষি ও ভোক্তাদের মধ্যে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে বলে জানান

বাংলাদেশের পেঁয়াজ উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত পাবনা, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, মাগুরা, বগুড়া ও লালমনিরহাট এলাকায় চিভ চাষের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে জানান ড. আলম।
তিনি বলেন, যেহেতু একবার রোপণ করলে একই গাছ থেকে সারা বছর ফসল মেলে, সেজন্য তারা বাংলাদেশে এর চাষযোগ্যতার গবেষণায় নামেন। গবেষণা সহযোগী ছিলেন ড. মোস্তাক আহমেদ, ড. আলাউদ্দিন খান ও মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান।

“গবেষণায় সাফল্য আসে। ২০১৮ সালে আমরা বারি চিভ-১ অবমুক্ত করি। এখন চাষ সম্প্রসারণের পর্যায়ে রয়েছে।”

বাংলাদেশে বছরে ১৭ লাখ মেট্রিকটনের বেশি পেঁয়াজ উৎপাদিত হয় জানিয়ে তিনি বলেন, আরও প্রায় পাঁচ লাখ মেট্রিটনের বেশি ঘাটতি রয়েছে।
“চিভ সেই ঘাটতি মেটাতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এটি একটি জনপ্রিয় মশলা।”

চিভের গুণাগুণ সম্পর্কে ড. আলম বলেন, এটা হজমে সাহায্য করে, রোগ নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়া এতে ক্যান্সার প্রতিরোধী গুণাগুণ রয়েছে। আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ভিটামিন বি-১, ভিটামিন বি-২, নায়াসিন, ক্যারোটিন ও খনিজ উপাদান।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*