পোল্ট্রি ও ডেইরি শিল্প : করোনায় ক্ষতিগ্রস্ততের জন্য একগুচ্ছ পরিকল্পনা

শ.ম রেজাউল করিম, মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী

করোনার আঘাতে স্থবির সারা বিশ্বের অর্থনীতি আর ব্যবসা বাণিজ্য । বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও  এর  প্রভাব পড়েছে সরাসরি । লক্ষ লক্ষ মানুষ বেকার হয়েছে।  ক্ষতিগ্রস্ত  দেশের শিল্প বানিজ্য । তবে, কিছু কিছু খাতে এই প্রভাব পড়েছে তাৎক্ষণিকভাবে। এর মধ্যে অন্যতম হলো দেশের পোল্ট্রি ও ডেইরি শিল্প।  এই অবস্থায় কি করনীয় । কি করছে সরকার ও মন্ত্রণালয় । এসব বিষয় নিয়ে মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী শ.ম রেজাউল করিমের  মুখোমুখি কৃষি জীবন।  কথা হয় বর্তমান  অবস্থা, করনীয়  আর ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে ।

কৃষি জীবন: পোল্ট্রি ও ডেইরি খাতে করোনার তাৎক্ষনিক আঘাতটি লেগেছে সবচেয়ে কম সময়ে। তার ওপর ছিল মাছ, মাংস ও ডিম খাওয়া নিয়ে গুজব।  এসব মোকাবিলায় কি করছে সরকার ও আপনার মন্ত্রণালয়?

মন্ত্রীঃ দেখুন, করোনা একটি বৈশ্বিক সমস্যা, এই সমস্যার যে আঘাত সেটা বিভিন্ন সেক্টরে আসছে । এর ভিতরে পোল্ট্রি খাতেও বড় ধরনের একটা আঘাত আসছে । পোল্ট্রি শিল্পের সাথে  যারা জড়িত, তাদের ছোট বাচ্চা, ডিম এবং বড় মোরগ-মুরগী, এগুলো উৎপাদন করার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যারা জড়িত, তাঁরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন । আমাদের কাছে তথ্য আছে যে, কোটি কোটি মুরগী এবং হাসের বাচ্চাকে জীবন্ত অবস্থায় গর্তে পুতে রাখতে হচ্ছে । কারণ এদের যে খাবার দেয়া দরকার, এদের যে পরিচর্যা এবং একটু বড় হওয়ার পরে যে সময়ের ভিতর এটা বিক্রি করা দরকার সে বিক্রিও তাঁরা করতে পারছে না । একই ভাবে ডিমের ক্ষেত্রে, ডিম পরিবহণ এবং দোকান-পাট খোলা না থাকায়, স্বাভাবিকভাবে লোকজন না থাকায়, ডিমের ঐরকম বাজারজাতকরনের সুযোগটাও তাঁরা গ্রহন করতে পারছেন না ।

মাংসের ক্ষেত্রেও বড় আকারের মুরগী হয়ে যাওয়ার পরে সে মাংসও তাঁরা সরবরাহ করতে পারছেন না । এইসব সমস্যা আমরা মাথায় রেখে, পরিকল্পনা নিয়েছি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটা অর্থনৈতিক প্যাকেজ ঘোষনা করেছেন । সেখান থেকে পোল্ট্রি শিল্পে, একেবারে ছোট্ট শিল্প থেকে শুরু করে বড় খামারী যারা আছেন, তাদেরকে কিভাবে স্বল্পসুদে ঋণ দেওয়া যায় অথবা প্রণোদনা দেওয়া যায় বা দুইটি সমন্বয় করে কীভাবে তাদেরকে আবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পোল্ট্রি শিল্পকে যাতে তাঁরা অব্যাহত রাখতে পারেন এ ব্যপারে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে । ইতোমধ্যে আমরা সার্ভেও করছি যে কারা কারা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে । এই ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তিদের তালিকা নির্ধারন করে আমরা তদেরকে সকল প্রকার সহযোগীতা দেবো, যাতে এই শিল্পকে তাঁরা বাঁচিয়ে রাখতে পারেন ।

কৃষি জীবনঃ প্রধানমন্ত্রী একটা প্রণোদনার কথা বলেছেন, সেটি সার্বিকভাবে, আপনার মন্ত্রণালয় কি ধরনের পরিকল্পনা করছে? ঠিক কি ধরনের সহযোগিতা তারা পাবে? আর যে তালিকার কথা বললেন, সেটি কারা করছে? কে কি ধরণের ক্ষতিগ্রস্থ হলো সেটি আপনারা কীভাবে নির্ধারন করবেন?

মন্ত্রীঃ আমাদের প্রতিটি উপজেলায় অফিস রয়েছে, কর্মকর্তা রয়েছে । উপজেলার বাইরেও ইউনিয়ন পর্যায়ে আমাদের কিছু মাঠকর্মী রয়েছে । তাদের মাধ্যমে ইতোমধ্যেই আমরা একটা জরিপ শুরু করেছি । এই পোল্ট্রি শিল্পের সঙ্গে কারা জড়িত ? ছোট খামার, বড় খামার, মাঝারি ধরণের খামার কাদের আছে ? কী পরিমান তাঁরা ক্ষয়-ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছেন ? এই রিপোর্ট টা পাওয়ার পরই কিন্তু আমরা ব্যবস্থা নিবো ।

এককভাবে এই রিপোর্টই না । সরকারের অন্যান্য সংস্থার মাধ্যমেও কিন্তু আমরা জরিপ করাচ্ছি । এর ভিতর দিয়ে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্থরা যাতে বাদ না পরে বা যারা ক্ষতিগ্রস্থ নয়, এমন লোকরা যাতে সুবিধা নিতে না পারে । আমরা মন্ত্রণালয়ে ইতোমধ্যেই পরিকল্পনা গ্রহন করেছি। আমরা দুই প্রকারে তাদেরকে সাহায্য করবো । একটি তাদের অর্থনৈতিক প্রণোদনা পরিপূর্নভাবে দেওয়া । আরেকটি তাদেরকে সামান্য সুদে ঋণ দেওয়া । এর ভিতর থেকে তাদের পাশে আমরা দাঁড়াবো । আমরা প্রয়োজনে তাদেরকে মুরগী সরবরাহ করা, বাচ্চা সরবরাহ করা, তাদের অন্য কোনো প্রযুক্তিগত সহযোগিতা লাগে কি-না । এই জাতীয় ভ্যাক্সিন দরকার, ঔষধ দরকার, সকল প্রকার সহযোগীতা করে আমরা এই খাতকে যে অবস্থায় পৌঁছেছে পুনরায় সে অবস্থা থেকে আবার শুরু করার জন্য সকল সহযোগীতা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের ।

কৃষি জীবনঃ আপনি বলছিলেন যে, কিছুদিন আগে একটি গুজব খুব বড় আকারে চলছিলো, মুরগী এবং ডিম নিয়ে, সেটার বিরুদ্ধে আপনি খুব ভালো অবস্থান নিয়েছেন । এই যে গুজবটি সেটি যেমন একদিকে আছে অন্যদিকে মানুষের কাছে এগুলো পৌঁছানোর মত এখন কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নাই । এই ক্ষেত্রে মানুষের কাছে পৌঁছানোর কোনো বিকল্প প্রক্রিয়া আপনার কাছে আছে কিনা ?

মন্ত্রীঃ করোনারে যে ক্ষতি এটা নানাভাবে ছড়িয়েছে । যেমন আমাদের সারা দেশে জরুরী অবস্থা ঘোষনার মত একটা পরিবেশ হয়ে গেছে । সামগ্রিকভাবে কিন্তু আমরা চাইলেও সকল মানুষকে রাস্তায় আসার সুযোগ দিতে পারছি না । রাস্তা-ঘাটের যে সকল দোকান-পাট, মুদি দোকান, বড় বড় বাজার এগুলো কিন্তু আমরা সারাদিন খুলে রাখতেও পারছি না । হোটেলগুলো সব বন্ধ হয়ে গেছে ! বিভিন্ন শিল্পে যেসব জায়গায় মাংসের প্রয়োজন ছিল, ডিমের প্রয়োজন ছিল, সেগুলি এখন কিন্তু নেই । এই ডিমটা কিন্তু বেকারি শিল্প, বিভিন্ন মিষ্টির বা অন্যান্য জায়গায়ও ব্যবহার হতো । বড় বড় অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত হতো । সে সকল অনুষ্ঠানও কিন্তু বন্ধ হয়ে গেছে । সামগ্রিক অর্থে আমরা চাইলেও কিন্তু স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসতে পারছি না । তার ভিতরে এগুলোকে উৎপাদন করা, সংগ্রহ করা, পরিবহন করা এবং বিপণনের ক্ষেত্রে কোনো বাঁধা নাই । আমরা এই শিল্পের সাথে যারা জড়িত তাঁদের সকলকে আহবান জানাচ্ছি যে, আপনারা সবাই এগিয়ে আসুন, আপনাদের উৎপাদন অব্যাহত রাখুন । বিপণন অব্যাহত রাখুন । হয়তো আগের মত স্বাভাবিক অবস্থায় চলবে না ।

করোনা ভাইরাস চলে যাবার পর স্বাভাবিক অবস্থা আসবে । তার ভিতর থেকে আমরা কীভাবে এটা পাড়ায় মহল্লায় ছোট ভ্রাম্যমাণ ভ্যান বা অন্য গাড়িতে করে এগুলো সরবরাহ করা যায় কি-না, মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া যায় কি-না, সে বিষয়টাকে আমরা বিবেচনা করছি ।

কৃষি জীবনঃ এবার একটু ডেইরি প্রসঙ্গে আসি । লাখ লাখ লিটার দুধ ফেলে দেয়া হচ্ছে । যেখানে খামারিরা দুধ বিক্রি করতে পারছেনা, সেইখানে প্যাকেজাত তরল দুধের দাম বাড়িয়ে দেয়া সম্পর্কে কী বলবেন ?

মন্ত্রীঃ বাংলাদেশ কিন্তু দুধে একটা অভাবনীয় সাফল্যের জায়গায় আসছে । সেখানে আমাদের তথ্য অনুযায়ী প্রতিদিন বিশাল পরিমান দুধ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে । প্রাতিষ্ঠানিকভাবে দুধ যারা সংগ্রহ করতেন প্রাণ, মিল্ক ভিটা, আড়ং এরকম কয়েকটা মাত্র প্রতিষ্ঠান । তাঁরা কিন্তু উৎপাদিত দুধের এক তৃতীয়াংশও নিতে পারছে না । দুই তৃতীয়াংশ কিন্তু বাইরে থাকে । এই দুই তৃতীয়াংশ আসলে যে ব্যবহৃত হতো সাধারণ মানুষের খাবারে, মিষ্টিতে, আইসক্রিমে, বেকারীতে, বিভিন্নভাবে এটা ব্যবহৃত হতো । সেই খাতের যে ব্যবহারটা সেটা কিন্তু আপাতত বন্ধ হয়ে গেছে । আমরা ইতোমধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক দুধ যারা সংগ্রহ করতেন, পাস্তুরিত করা, প্রক্রিয়াজাতকরণ করা, তাঁদেরকে নির্দেশনা দিয়েছি যে তাঁরা তাঁদের দুধ কালেকশন যেনো অব্যাহত রাখে । তবে কোনো ভাবেই এখন দাম বাড়ার কোনো কারণ নাই । কারণ আমাদের প্রান্তিক চাষীরা, খামারীরা স্বল্পদামে দুধ সরবরাহ করছেন । এই অবস্থায় কোনো প্রতিষ্ঠান যদি দুধের দাম বৃদ্ধি করে নেয়, তবে নিশ্চয়ই আমরা এ বিষয়টাকে কঠোরভাবে দেখবো । আমি আশা করি যে তাঁরা কোনো ভাবে নেবে না । আর যারা দুধ উৎপাদন করেন তাঁদের জন্য আমাদের একটি বার্তা রয়েছে । দুধটাকে নষ্ট না করে, আপনারা ক্রিমটাকে আলাদা করে, সেই ক্রিমের মধ্য থেকে ঘি বানাতে পারেন । ঘি বানিয়ে সেটাকে কিন্তু সংরক্ষণ করতে পারেন । এটা পচে যাবেনা দুধের মত । আর আমরা কুলিং স্টোর টাকে বৃদ্ধি করবো । যেখানে দুধকে শীতল করে রাখা যায় । আর প্রক্রিয়াজাতকরণ করার জন্যে যেসকল মেশিনারিজ, আমরা বিদেশ থেকে সেগুলো আনার জন্য প্রক্রিয়া শুরু করেছি । যাতে কোনো অঞ্চলের কারো দুইটি গাভী থাকলেও তার দুধও যেনো যেনো নষ্ট না হয়ে যায় ।

আসলে আমরা তো প্রস্তুত ছিলাম না যে করোনার এ পরিস্থিতি হবে । এবারের অভিজ্ঞতা কিন্তু আমাদেরকে সামনে চলার মত পরিকল্পনা গ্রহণে সাহায্য করছে ।

কৃষি জীবনঃ আপনি যে তথ্য দিলেন তাতে দুধের উৎপাদন অনেক বেড়েছে এবং যে শীতলীকরণ প্রক্রিয়া  কথা বললেন, এ পরিকল্পনাগুলো আমাদের আরো আগে থেকে নেয়া উচিত ছিলো কি-না ? তাহলে হয়তো এসময়ে আরো কিছুটা হলেও রক্ষা পাওয়া যেতো ।

মন্ত্রীঃ দুধকে প্রক্রিয়াজাতকরণ করার ক্ষেত্রে, এটাকে কুলিং করে রাখার ক্ষেত্রে, সবকিছু মিলে পরিকল্পনাটা দরকার ছিলো। গ্রামেও যখন খামার বেড়ে উঠেছে, আমরা প্রতিদিন লাখ লাখ লিটার দুধ পাচ্ছি।  সেইক্ষেত্রে এটাকে সংরক্ষণের জন্য পরিকল্পিত ভাবে পদক্ষেপ আগেই নেওয়া দরকার ছিলো । কিন্তু সেটা হয়তো ধীর গতিতে ছিলো । আমরা এবারের অভিজ্ঞতায় আমাদের গতিটাকে আরো বৃদ্ধি করবো ।

কৃষি জীবনঃ এখন যেই চাষীরা ক্ষতিগ্রস্থ হলেন, সরকারের কী পদক্ষেপ আছে এবং তাঁরা কীভাবে এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন ? মন্ত্রণালয় কী পরিকল্পনা নিয়েছেন ?

মন্ত্রীঃ দুগ্ধ উৎপাদনের সঙ্গে যারা জড়িত, তাঁদেরকে আমরা সবকিছুই করে দিতে পারবো না । কিন্তু এই অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাকৃতিক একটা ভয়াভহ অবস্থার মুখোমুখি হয়ে, তাঁদের যে ক্ষয়-ক্ষতি এটা পুষিয়ে ওঠার জন্য আমরা তাঁদেরকে ভ্যাক্সিন, ওষুধ, গরুর খাবার এসবের জন্য যদি প্রণোদনা দিতে হয় সেটা দিবো। দুধকে প্রক্রিয়াজাতকরণ করার ক্ষেত্রে যে মেশিন সাটপোর্ট দরকার তা দিবো। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাঁদেরকে ঋণ দেওয়া, ক্ষেত্র বিশেষে প্রণোদনা দেওয়া, এ জাতীয় পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে । যাতে দুধ উৎপাদনের সঙ্গে  সম্পৃক্তদের যেন কোনো রকম সমস্যা না হয় । তাঁরা যেনো আবার ঘুরে দাড়াতে পারেন ।

কৃষি জীবনঃ মৎস্য  খাতে আসি, মৎস্য খাতে সমস্যা কিছুটা কম বোঝা যায় মৎস্য  খাতে কি পরিকল্পনা সরকারের ?

মন্ত্রীঃ মাছে কিন্তু বাংলাদেশ স্বয়ং সম্পূর্ন শুধু না, এই মাছ আমরা বিদেশে রপ্তানি করে কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছি । ইতোমধ্যেই কিন্তু কয়েকশো কোটি টাকার বৈদেশিক অর্ডার ক্যান্সেল হয়ে গেছে । কারণ ঐসব দেশে মাছ নেওয়ার পরিবেশ নাই । আমরাও আমাদের জনবল দিয়ে সবকিছু প্রক্রিয়াজাতকরণ করে সেটাকে পাঠাবার মত অবস্থায় নাই । কিন্তু অনেক খামারীর মাছ বেঁচার উপযুক্ত হয়ে গেছে । তারপরও তাঁরা মাছ তুলতে পারছেন না । মাছের যে রেণু সেটা সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না । পোনা তৈরি, সেটাকে বড় করা এবং সেটাকে বিভিন্ন খামারে ছেড়ে দেওয়া, সেটাও তাঁরা করতে পারছেন না । ফলে মাছ উৎপাদনের সঙ্গে যারা জড়িত তারাও ক্ষতিগ্রস্থ । তাঁদেরকে ঋণ এবং অন্যান্য প্রণোদনা দেওয়ার কথা বিবেচনায় রয়েছে । মাছ কিন্তু শুধু আমাদের চাহিদা পূরন না, আমাদের পুষ্টি চাহিদা পূরনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করছে । বাংলাদেশের মানুষের যে গড় আয়ু বৃদ্ধি পাচ্ছে, এক্ষেত্রে কিন্তু তাঁদের পুষ্টিকর খাবার গুরুত্বপূর্ন একটা ভূমিকা রেখেছে। সেই পুষ্টিকর খাবারের ক্ষেত্রে দুধ, ডিম, মাছ, মাংস রয়েছে । ফলে এই খাতটাকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন বিধায় তিনি প্রতিনিয়ত যখনি পাবলিক এড্রেস করেন, সেখানে কিন্তু এই খাতের জন্য তাঁর আগ্রহ ও তাঁর সরকারের আগ্রহের কথা বলেন । আমরা সে ব্যাপারে খুবই সংবেদনশীল এবং সবটুকু আন্তরিকতা নিয়ে আমরা তাঁদের জন্য কাজ করবো ।

কৃষি জীবনঃ আর যেসব জেলেরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন, জেলেরা আপাতত যারা সংকটের মধ্যে আছেন তাঁদের ব্যাপারে আপনাদের কি পরিকল্পনা ?

মন্ত্রীঃ মৎস্যজীবীরা এই সময়ে কঠিন সমস্যার মুখোমুখী হচ্ছেন । এটাকে মাথায় রেখে, আমরা ইতোমধ্যে চব্বিশ হাজার মেট্রিকটন চাল বরাদ্ধ করেছি । তাঁদের চল্লিশ কেজি করে চাল দেওয়া হবে । যাতে এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে তাঁদের না খেয়ে থাকতে না হয় এবং অন্যান্য যেসকল সুযোগ-সুবিধা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া হচ্ছে, যেমন দুর্যোগকালীন ত্রাণ সহায়তা সেটাতো তাঁরা পেতেই পারেন । মৎসজীবী হিসেবে তাঁদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রেখেছি । আমরা চব্বিশ হাজার মেট্রিকটন চাল বরাদ্ধ করেছি । ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসকদের কাছে চিঠি দিয়েছি । মৎসজীবীদের চিহ্নিত করে তাঁদের মধ্যে এটা বিতরণ করার জন্য ।

কৃষি জীবনঃ ভালো উদ্যোগ । কিন্তু চাল চোর একটা গুঁজব উঠে গেছে । এই এরকম দুঃসময়ে এ কাজগুলো যারা করছে, তাদের ব্যাপারে কি বলবেন ?

মন্ত্রীঃ দেখুন, আমি প্রায়ই বলে থাকি, অমানুষগুলো চেনা কঠিন । কারণ, অমানুষগুলো দেখতে মানুষেরই মত । এই সময়ে যারা ত্রাণের সহায়তা আত্মসাৎ করে বা অনিয়ম করে, তাঁদেরকে নর পশুর সঙ্গে তুলনা করা ছাড়া আর কিছু বলার নাই । আমি চাইবো সমাজের সকল মানুষ, চেয়ারম্যান, মেম্বার, রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীরা, স্থানীয় শিক্ষক, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, যারা এলাকার সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি সকলে সক্রিয় হন । আমরা ত্রাণ সহায়তা দিচ্ছি । এই ত্রাণটা যথাযতভাবে যাতে পৌছায় । এক কেজি ত্রাণ যাতে কাউকে কম দিতে না পারে । যথাযত ভাবে যেনো বণ্টন হয় । শুধুমাত্র আমাদের কয়েকজন অফিসার কিন্তু এটা দেখতে পারবে না । যে যেই দলই করেননা কেনো, যে যে পেশায় থাকেন, সকলেই ত্রাণ সহায়তা যথাযতভাবে বণ্টনের ক্ষেত্রে এগিয়ে আসুন । এই জাতীয় ঘটনায় অপরাধের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের ঘৃণা করুণ, তাদের সমাজচ্যুত করুন, তাদের আইনের কাছে সোপর্দ করুন ।  সরকার কঠোর এইক্ষেত্রে । সে যেই হোক না কেনো, আমার দল করেন আমার আত্মীয় হোন, অন্য দল করেন, কে কতটা প্রভাবশালী তা আমার কাছে মুখ্য নয় । তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ।

কৃষি জীবনঃ আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ।

মন্ত্রী: আপনাকেও ধন্যবাদ

 

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*