বিশ্বের সবচেয়ে দামি মিয়াজাকি আম সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য

Mizaki mango in bangladesh

বেশ কদিন থেকেই একটি ফল নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে বাংলাদেশে। আর তা হলো জাপানের মিয়াজাকি আম। এই আম শুধু বাংলাদেশেই নয়, ভারতেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শিরোনাম হয়েছে দেশের শীর্ষ স্থানীয় গণমাধ্যমের। সেখানে একটি মিয়াজাকি গাছের সাতটি আম ও একটি গাছ পাহাড়া দিতে চারজন নিরাপত্তা কর্মী ও ছয়টি কুকুর নিযুক্ত করা হয়েছে যাতে কেউ এই আম চুরি করতে না পারে।

মধ্য প্রদেশের এক এমপি তার বাড়িতে মিয়াজাকি জাতের একটি আমের চারা রোপন করেন। সেই গাছে সাতটি ধরেছে এবার। এর আগে ধরা আম চুরি হয়ে যায় বলে দাবি করেন ঐ ভদ্রলোক। এবার তাই নিরাপত্তার জন্য তিনি নিয়োগ করেন কর্মী। এখন প্রশ্ন হলো, এই সাতটি আম পাহাড়া দিতে কেন তিনি এমন ব্যবস্থা নিলেন। এই সাতটি আমের এমন কি দাম যেকারণে এই ব্যবস্থা। হিন্দুস্তান টাইমস পত্রিকা তাদের এক রিপোর্টে বলছে, মিয়াজাকি জাতের এক কেজি আমের দাম ২ লাখ ৭০ হাজার রূপি। বাংলাদেশি টাকায় কত হবে নিশ্চেই বুঝতে পারছেন। তাই ঐ এমপি সাহেব এমন ব্যবস্থা নিয়েছেন।

শুধু ভারতেই নয়, এই আম সারাবিশ্বের সবচেয়ে দামি আম। এই আমের মিষ্টতা সাধারণ  আমের চেয়ে ১৫ ভাগ বেশি। একটি আম ৩৫০ গ্রাম পর্যন্ত বড় হয়। মুলত এটি জাপানি আম। দক্ষিন জাপানের কিয়োশু অঞ্চলের মিয়াজাকি নামক স্থানে  এটির জন্ম। তাই নাম মিয়াজাকি। এটিকে জাপানি ভাষায় বলা হয়, তাইয়ো নো তামাগো ( Taiyo no tamago )। এর ইংরেজি অর্থ দাড়ায় egg of the sun. বাংলা অর্থ সূর্যের ডিম। একারণে বাংলায় আমটির নামকরণ করা হয়েছে সূর্য ডিম।

আমটি সম্পর্কে জেনে নিন কিছু অজানা তথ্য:

০১.জাপানের উৎপাদন ও বানিজ্য উদ্বুদ্ধকরণ কেন্দ্র বলছে, এই আম উৎপাদনের সবেচেয়ে উপযুক্ত সময় হলো এপ্রিল থেকে আগস্ট।

০২. বিশ্বের সবচেয়ে দামি আম মিয়াজাকি। জাপানী গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুসারে এই আম প্রতি কেজি ২ লাখ ৭০ হাজার রূপিতে বিক্রি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ২০১৭ সালে দুইটি আমের একটি প্যাকেট যার ওজন ছিল ৭০০ গ্রাম, বিক্রি হয়েছি ৩ হাজার ৭০০ ডলারে।

০৩. মিয়াজাকি থেকে  এই আমের উৎপাদন  এখন পুরো জাপানে ছড়িয়ে পড়ছে।

০৪. জাপানের ট্রেড প্রেোমোশন ব্যুরোর তথ্য  বলছে, এই আমে প্রচুর পরিমানে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, বেটা ক্যারোটিন ও ফলিক এসিড আছে। তাই এটি চোখের দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্যৃ করে।

০৫. জাপানের স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর বলছে, জাপানের মিয়াজাকিতে গত শতকের ৭০ ও ৮০’র দশকে এই আমের চাষ শুরু হয়। উষ্ঞ আবহাওয়া, দীর্ঘ সময় সূর্যের আলো থাকা ও কম বৃষ্টিপাতের কারণে মিয়াজাকিতে এই আম ভালো হয়।

০৬. এই আম রপ্তানিকালে সর্বোচ্চ গুনগত মান বজায় রাখার চেষ্টা করেন কৃষক ও উদ্যোক্তারা। ফলেিএটির গুনগত মান নিয়ে প্রশ্ন  কম।

০৭. এই আমের রং অনেকটা লালচে বর্নের। পরিপূর্নি  আকার নিলে এটিকে দেখতে মনে হয় ডাইনোসরের ডিমের মত।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*