লকডাউনে হাড়িভাঙ্গার ক্রেতা নেই রংপুরে; দুশ্চিন্তায় চাষিরা

আম রপ্তানির উদ্যোগ

১ জুলাই থেকে সারাদেশে চলছে কঠোর লকডাউন । আর তার বড় প্রভাব পড়েছে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় আম রংপুরের হাড়িভাঙ্গার বাজারে। গ্রাহক না থাকায় মৌসুমি আম ব্যবসায়ী ও বাগান মালিকদের এখন পথে বসার উপক্রম হয়েছে। গত বছর মৌসুমের শুরুতে প্রতি মণ আম যেখানে বিক্রি হয়েছিল ১৮শ থেকে ২২শ টাকা মন, এবার তার অর্ধেক দামেও বিক্রি করা কঠিন।

রংপুরে হাড়িভাঙ্গা আমের বাজার প্রায় ২০০ কোটি টাকারও বেশি। কিন্তু এবার তা ১শ কোটিও হবে কিনা তা নিয়ে সংশয়ে কৃষি ‍বিভাগ। এবার আম বিক্রি করে খরচ ওঠা নিয়েই ভাবনায় আছেন চাষিরা।

বিভিন্ন আমের হাটে গিয়ে দেখা যায়, প্লাস্টিকের ক্যারেট আর নানা ধরনের কাটুঁনে থরে থরে সাজানো হাড়িভাঙ্গা আম। গ্রাহকের অভাবে আম নিয়ে অপেক্ষায় দিন পার করছেন শত শত চাষি। বিক্রির অভাবে আড়তে স্তুপ করে রাখা হয়েছে আম। আবার বাগানের আমও পারতে সাহ পাচ্ছেন না অনেক চাষি। ফলে গাছে পেকে পেকে তা নষ্ট হচ্ছে।

আম চাষি আর ব্যবসায়ীরা বলছেন, দিন দিন যেভাবে দাম কমে যাচ্ছে তাতে মনে হয় এবার হাড়িভাঙ্গা আমে লোকসানের সম্ভাবনাই বেশী ।তিনি আরও বলেন,লকডাউনে হয়তো ২০ টাকা বা তার কমে কেজি দরে এবার আম বিক্রি করতে হবে।

অনলাইনে যারা আম কেনা-বেচা করেন তারা বলছেন, অনলাইনে অর্ডার নিয়ে সেই অনুযায়ী কুড়িয়ারের মাধ্যমে আম পাঠানো যেতো।কিন্তু লকডাউনে তো ক্রেতা কুড়িয়ার থেকে এসে আম তুলতে পারছেনা। একারণে আর কুরিয়ারে আম পাঠানো যাচ্ছেনা।

তারা বলছেন, লকডাউনে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা আম কিনতে চাচ্ছেন না। কারণ, ঢাকায় নিয়ে তারা যাদের কাছে আম বিক্রি করবেন তারাতো ঘর থেকে বের হতে পারছেন না।

চাষিরা বলছেন, রাজশাহী থেকে আম নিতে যেভাবে বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল, রংপুর থেকে সেভাবে ঢাকায় আম নেয়ার ব্যবস্থা করা দরকার। কম খরচে আম গ্রাহকদের কাছে পৌছানো গেলে হয়তো একটা উপায় হতে পারে।

মিঠাপুকুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, উপজেলায় এক হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে হাঁড়িভাঙ্গা আম বাগান রয়েছে। প্রতি হেক্টরে ১২ থেকে ১৩ টন আম উৎপাদন হয়েছে। তিনি আরও বলেন, হাড়িভাঙ্গা আমের বাম্পার ফলন হলেও লকডাউনে দেশের এমন পরিস্থিতিতে আমাদের তেমন কিছু করার নেই। তবে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এর আগে এই হাড়িভাঙ্গা আম বিক্রির জন্য একটি অ্যাপ চালু করেছিল কৃষি বিভাগ। কিন্তু তাতেও খুব বেশি কাজ হচ্ছেনা।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*