রাজশাহীর দুর্গাপুরে চারটি ডিম পাড়ার পর মুরগি মোরগে রুপান্তরিত!

একটি মুরগি এক হালি অর্থাৎ চারটি ডিম পাড়ার পর মোরগে রুপান্তরিত হয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায়।

দুর্গাপুর উপজেলার আলিপুর গ্রামের মো. হাসান আলীর বাড়িতে ঘটেছে এ বিরল ঘটনা। এই লিঙ্গ রুপান্তরিত মোরগটিকে দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে উৎসুক জনতা ভিড় করছে।

এ ঘটনার বিষয়ে মো. হাসান আলী জানান, তিনি একটি খামার থেকে চারটি মুরগি কিনে এনেছিলেন। এই মোরগটা বড় হয়ে মুরগী থাকা অবস্থায় চারটি ডিম পাড়ে। এরপর হঠাৎ মুরগিটি মোরগের আচরণ করা শুরু করে। ওনার চাচার বাড়িতে এর ব্রিড করা বাচ্চাও বেড়ে উঠেছে। মোরগ যা করে এর আচরণ ঠিক তেমনই।

এক প্রতিবেশী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমরা দেখেছি এটি মুরগি ছিলো। হঠাৎ মোরগ হয়ে গেলো। আল্লাহর অলৌকিক এক নিদর্শন।’ সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এটির সামনের অংশ মোরগের ন্যায় এবং পেছনের অংশ মুরগির ন্যায়। তবে মোরগের আচরণ তার মাঝে সবথেকে বেশি বিদ্যমান।

এদিকে বিজ্ঞানে বিষয়টির ব্যাখ্যা রয়েছে। ইন্টারনেট ঘেঁটে জানা যায়, এ ধরণের অবস্থাকে বলে গাইনানড্রোমরফিজম বা দুই লিঙ্গধারী মুরগি। এক ধরনের জিনগত ত্রুটির কারণে কিছু প্রাণী ও পতঙ্গে একইসাথে পুরুষ ও স্ত্রী বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে। এক্ষেত্রে পুরুষ লিঙ্গধারী অংশ পুরুষত্বের বৈশিষ্ট্য ধারণ করে এবং স্ত্রী লিঙ্গধারী অংশ স্ত্রী লিঙ্গের বৈশিষ্ট্য ধারণ করে। এভাবে একই প্রাণীতে একইসাথে স্ত্রী ও পুরুষ বৈশিষ্ট্য সক্রিয় থাকে।

একই মুরগির দুই পাশে দুই রকম বর্ণ ও বৈশিষ্ট্য থাকলে এরা অন্য স্ত্রী মুরগির সাথে সঙ্গমের জন্য লাফিয়ে ওঠে, আবার ছোট আকারের ডিমও পাড়ে। এ ধরনের দ্বিপার্শ্বীয় বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে কঙ্কালের গঠন দুই পাশে দুই রকম হয়ে থাকে। এদের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন অংশের গঠনও ভিন্ন হয়। এছাড়াও ময়নাতদন্ত করলে ভিতরে অণ্ডকোষ ও ডিম্বকোষ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকতা ডা. মো. আবু অানাস জানান, এটা খুবই বিরল। জিনগত ত্রুটির কারণে এমন হয়েছে। এটা কোনো অলৌকিক ঘটনা নয়। এর বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা রয়েছে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*