আমাদের বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি কৃষি। আর যে কোনো ফসল উৎপাদনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ হচ্ছে বীজ। কৃষি নির্ভর আমাদের এ দেশের খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা পূরণ এবং দারিদ্র বিমোচনের জন্য প্রয়োজন উন্নতমানের প্রত্যায়িত বীজ ব্যবহার করে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করা।
কৃষি বিজ্ঞানীদের গবেষণার দ্বারা দেখা গেছে, একই ব্যবস্থাপনায় শুধুমাত্র মানসম্পন্ন প্রত্যায়িত ভালো বীজ ব্যবহারের মাধ্যমে ১৫-২০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত ফলন পাওয়া সম্ভব।
ফসল উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণের প্রথমটিই হলো বীজ, এর মানে বীজ হচ্ছে ফসলের প্রাণ। তাই চিরন্তন সত্যি হচ্ছে ‘ভালো বীজে ভালো ফসল’। আর এর কোনো বিকল্প নেই।
প্রত্যেক বীজের ক্রেতা-বিক্রেতা, বীজ ব্যবসায়ী ও কৃষকদের জানা অাবশ্যক, ভালো বীজ তথা মানসম্পন্ন প্রত্যায়িত বীজের গুণাবলী এবং চেনার উপায়। জেনে নিন যেভাবে ভালো বীজ চেনা যাবে-
বীজ যে জাতের সে জাতের নির্দিষ্ট গুণাবলী থাকা আবশ্যক। জাতীয় বীজ র্বোডের অনুমোদিত বীজ, মান অনুসারে একটি ভালো বীজের বিশুদ্ধতা হতে হবে ৯৬% হতে ৯৯% ভাগ।
ভালো বীজ অবশ্যই সব ধরনের মিশ্রণ মুক্ত হতে হবে, মানে একটি ভালো বীজে জড় পদার্থ, আগাছার বীজ বা অন্য ফসলের এমনকি অন্য জাতের মিশ্রণ থাকা চলবে না। অন্য ফসলের বীজ বা আগাছার বীজ থাকতে পারে।
বিশুদ্ধ ও ভালো বীজ অবশ্যই রোগ জীবাণুমুক্ত এবং পোকামাকড়ের আক্রমণ মুক্ত হতে হবে। ভালোবীজ মানেই উচ্চ অংকুরোদগম ক্ষমতা সম্পন্ন বীজ মানে অংকুরোদগম ক্ষমতা হতে হবে ৮৫% বা তার ওপরে।
নির্দিষ্ট ফসলের নির্দিষ্ট জাতের সব বীজ প্রায় একই আকৃতির, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, পরিপক্ব ও পরিপুষ্ট হতে হবে। এতে বীজের জীবনীশক্তি এবং বীজের স্বাভাবিক উজ্জ্বল রঙ থাকতে হবে।

Be the first to comment