কুমিল্লা (দক্ষিন) জেলার লালমাই পাহাড়ে এখন কাঁঠালের ম-ম গন্ধ। পাহাড় এলাকায় প্রবেশ করতেই নাকে আসবে কাঁঠালের মিষ্টি ঘ্রাণ। সেখানে চোখে পড়বে কাঁঠালের উৎসব। লালমাই পাহাড় এলাকায় ১৩৫ হেক্টর জমিতে কাঁঠাল চাষ করা হয়।
দেখবেন গাছ থেকে কাঁঠাল কাটা হচ্ছে। তা এনে একত্র করা হচ্ছে সড়কের পাশে। সেখান থেকে পিকআপ ভ্যানে করে কাঁঠাল চলে যাচ্ছে বিভিন্ন বাজারে। এ ছাড়া পাহাড়ের পাশ্ববর্তী বিভিন্ন বাজারেও বসছে কাঁঠালের বাজার। চন্ডীমুড়া, রতনপুর, লালমাই ও বিজয়পুর বাজার কাঁঠালের ক্রেতা বিক্রেতাদের দ্বারা এখন সরগরম হয়ে আছে।
তথ্যনুযায়ী, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ, সদর, বরুড়া ও বুড়িচং উপজেলায় লালমাই পাহাড়ের অবস্থান। তবে বেশি অংশ সদর দক্ষিণে রয়েছে। পাহাড়ের সালমানপুর, জামমুড়া, হাতিগাড়া, বিজয়পুর, রতনপুর, রাজার খোলা, চৌধুরী খোলাসহ বিভিন্ন এলাকায় অনেক বেশি কাঁঠাল উৎপন্ন হয়।
পাহাড়ে গিয়ে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশ্ববর্তী লালমাই পাহাড়ে একটি সড়ক প্রবেশ করছে। প্রথমেই সালমানপুর। এখানে সড়কের মোড়ে বাগান ক্রয় করা পাইকারেরা কাঁঠাল নিয়ে অপেক্ষা করছেন। পাইকারী বিক্রেতা রমিজ উদ্দিন অপেক্ষায় আছেন কাঁঠালের পাইকারি ক্রেতার। পাহাড়ের গা বেয়ে একটু বামে গেলেই জামমুড়া এলাকা। পাহাড়ের ঢালুতে এখানে কয়েকটি ভাগে কাঁঠালের উৎসব বসেছে। কেউ বাগান থেকেই কাঁঠাল কাটছেন। কেউবা পাইকারকে কাঁঠাল বুঝিয়ে দিচ্ছেন। পাইকারী বিক্রেতা গাড়িতে কাঁঠাল তুলছেন। নগদ টাকায় কাঁঠাল বিক্রি করতে পেরে খুশি বাগান মালিকরা। চলছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাক। এমন হাঁকডাক শোনা যায় সম্পূর্ন পাহাড়েই।
জামমুড়া এলাকার বাগান মালিক মোস্তফা আলী জানান, এখানে কয়েক ধরনের ক্রেতা-বিক্রেতা রয়েছেন। এখানে ব্যক্তি উদ্যোগেই পাহাড়ে-ঢালুতে কাঁঠাল বাগান করা হয়। ফল আসার পর পাইকারী বিক্রেতারা কাঁঠাল বাগান ক্রয় করেন। তাঁরা আবার ফল পাকার পর আরেক পাইকারের কাছে বিক্রি করেন। কয়েক হাত বদলে কাঁঠাল বাজারে আসে। তাঁর ২৫/৩০টি গাছ আছে। তিনি কাঁঠাল কেটে এনে পাইকারী বিক্রেতার কাছে সরাসরি বিক্রি করছেন। বড় জাতের কাঁঠাল প্রতিটি ১০০/১২০ টাকা মূল্যে বিক্রি করেছেন।
ঐ এলাকার বাগান ক্রয় করা পাইকার ছায়েদ আলী জানান, তিনি ১০ বছর যাবত কাঁঠাল বাগান ক্রয় করেন। এবারে ২৫০টি গাছের বাগান ক্রয় করেছেন। এখানে ২ হাজার ৬০০ কাঁঠাল রয়েছে। মাঝারি সাইজ ৬৫ টাকা এবং ছোটগুলো ২৫ টাকা করে বিক্রি করেছেন। তাই এবার লাভ কিছু কম হবে। ৭৫ হাজার টাকা দিয়ে বাগান ক্রয় করেছেন। ইতিমধ্যেই ৬০ হাজার টাকার কাঁঠাল বিক্রি করেছেন। আশা করছেন মোট দেড় লক্ষ টাকার কাঁঠাল বিক্রি করতে পারবেন।
কাঁঠালের খুচরো বিক্রেতা সাইফুল ইসলামের বাড়ি কুমিল্লার দেবিদ্বারে। তিনি থাকেন কুমিল্লা নগরীর ধর্মপুরে। তিনি জামমুড়া থেকে ১০০টি কাঁঠাল ৯ হাজার টাকা দিয়ে কিনেছেন। আশা করছেন এই কাঁঠাল ফেরি করে বিক্রি শেষে খরচ বাদে তার ২ হাজার টাকা লাভ হবে।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন মজুমদার জানান, পাহাড়ের অধিকাংশ এলাকা সদরের দক্ষিণে। এখানে স্থানীয় জাতের কাঁঠাল উৎপন্ন হয়ে থাকে। এ সময়ে পাহাড়ে কাঁঠাল বিক্রির ধুম পড়ে যায়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর কুমিল্লার উপ-পরিচালক মো. মিজানুর রহমান জানান, জেলায় ৩৩৫ হেক্টর জমিতে কাঁঠাল চাষ করা হয়। তার মধ্যে লালমাই পাহাড় এলাকায় ১৩৫ হেক্টর জমিতে কাঁঠাল চাষ করা হয়। পাহাড়ে ২ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন কাঁঠাল উৎপন্ন হয়। এ পাহাড়ের কাঁঠাল স্বাদে অতুলনীয়। তাই এর চাহিদা অনেক বেশি। কাঁঠাল চাষ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত হাজারো মানুষের এ সময় বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

Be the first to comment