অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে বরগুনার আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের হলদিয়া গ্রামের সরকারি খালে। এতে ঐ এলাকায় ১০ হাজার একর জমির চাষাবাদ বন্ধ রয়েছে জলাবদ্ধতার কারণে। ভুক্তভোগী কৃষকেরা পানি সরানোর দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার ইউএনওর কার্যালয়ে আবেদন জানিয়েছেন।
আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের হলদিয়া ও গুরুদল গ্রামের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত কাউনিয়া খান। খালের জুলেখা নামক স্থানে পাঁচ কপাটের স্লুইসগেট রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকার বাসিন্দা নান্নু মোল্লা ১০ বছর ধরে খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করে আসছেন। খালের পাঁচটি স্থানে বাঁধ ও একটি কালভার্টের মুখে জাল দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। এতে পানিনিষ্কাশন বন্ধ থাকায় এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। তিন-চার ফুট পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে ১০ দিন ধরে জমি চাষাবাদ বন্ধ রয়েছে। এতে প্রায় ১০ হাজার একর জমির পানিতে তলিয়ে আছে।
হলদিয়া গ্রামের কৃষক রুহুল আমিন প্যাদা অভিযোগ করেন, নান্নু মোল্লা প্রভাব খাটিয়ে সরকারি খালে অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছেন। কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে রয়েছে। অনেকের বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়েছে।
স্থানীয় আবদুল খালেক মোল্লা ও মেনাজ প্যাদা বলেন, ‘খালে বাঁধ দেওয়ার কারণে জমি চাষাবাদ করতে পারছি না।’ দ্রুত বাঁধ কেটে পানি অপসারণের দাবি জানান তাঁরা।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম বলেন, পানির কারণে কৃষকের হালচাষ বন্ধ রয়েছে। আমনের বীজতলা পচে গেছে। এভাবে পানি জমে থাকলে দুই গ্রামের কৃষকের জমি অনাবাদি থেকে যাবে।
বাঁধ দেওয়ার কথা অস্বীকার করে নান্নু মোল্লা বলেন, মাছ চাষ করা হচ্ছে কালভার্টের মুখে জাল দিয়ে ঘিরে ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সি এম রেজাউল করিম বলেন, ‘জলাবদ্ধতার বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। ইউএনওর নির্দেশে সরেজমিনে তদন্ত করে দ্রুত সময়ের মধ্যেই প্রতিবেদন দেওয়া হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে তদন্তের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে বাঁধ কেটে পানি অপসারণের ব্যবস্থা করা হবে।

Be the first to comment