হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সামসুল ইসলাম ওরফে মামুন শিল্পকারখানার অবকাঠামো নির্মাণে মাটি সরবরাহের ঠিকাদারি নিয়েছেন। তিনি এ মাটির জোগান দিতে বেছে নিয়েছেন হাওরের কৃষিজমি।খননযন্ত্র দিয়ে মাটি তোলায় এলাকার প্রায় ২০০ একর জমি চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় কৃষকদের।
মাধবপুর উপজেলার মাল্লা ও ধনকুড়া গ্রামের হাওরে দেখা যায়, স্থানীয় কাষ্টি নদের পাশেই মাল্লা-ধনকুড়া বন্দ (হাওর) অবস্থিত। এ হাওরের প্রায় ১০০ একর জমি নিয়ে বাঁধ তৈরি করা হয়েছে। এ বাঁধের চারপাশ ঘিরে খনন করা হয়েছে বিশাল খাল। তাতে বসানো হয়েছে ড্রেজার মেশিন (খননযন্ত্র)। পাইপের সাহায্যে ঐ স্থান থেকে ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে নোয়াপাড়া এলাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে উত্তোলন করা তরল মাটি। সেখানে গড়ে উঠছে বেশ কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠান। এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো স্থাপনে ব্যবহার করা হচ্ছে হাওরের এসব মাটি।
স্থানীয় লোকজন জানান, গত জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে এ খননকাজ শুরু করা হয়। গত দুই দিন আগে (সোমবার) পর্যন্ত এ মাটি উত্তোলন অব্যাহত ছিল। চেয়ারম্যান ১০০ একর জমি থেকে মাটি নেওয়ায় আশপাশের আরও ১০০ একর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব জমির উর্বতা হ্রাস পাচ্ছে। জমিতে ফাটল দেখা দিচ্ছে। এ বিষয়ে কৃষকদের পক্ষ থেকে গতকাল মাধবপুর ইউএনও কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে প্রতিকার চাওয়া হয়েছে।
হাওরের কৃষকেরা বলছেন, স্থানীয় দুই গ্রামের মানুষ কৃষির ওপরই নির্ভরশীল। এ হাওরে ইউপি চেয়ারম্যানের তেমন কৃষিজমি নেই। কিন্তু তিনি সাধারণ কৃষকদের স্বপ্ন দেখিয়েছেন, ধানের চেয়ে মাটি ব্যবসায় আয় বেশি। কিছু কৃষক তাঁর কথামতো মাটি ব্যবসায় এলেও অনেক কৃষক আসেননি। যাঁরা আসেননি, তাঁদের জমিতে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে এবং প্রভাব খাটিয়ে প্রায় ১০০ একর জমিজুড়ে বাঁধ তৈরি করেন চেয়ারম্যান।
জানতে চাইলে বুল্লা ইউপি চেয়ারম্যান সামসুল ইসলাম কৃষিজমি থেকে মাটি তোলার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তিনি দাবি করেন, তিনি নিজের জমিতে পুকুর খনন করে মাটি উত্তোলন করছেন।পাশের নোয়াপাড়া এলাকায় এই মাটি একটি নতুন কারখানা স্থাপনে ব্যবহৃত হচ্ছে।হাওরের কৃষিজমির কোনো ক্ষতি হচ্ছে না এই মাটি তোলার কারনে।

Be the first to comment