বরগুনায় কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক; ফলন ভালো হয়েছে আউশের!

বরগুনার আউস ধান; কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক!

তুমুল বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার পরও বরগুনার কৃষকরা উঠে দাঁড়িয়েছেন। ভালো ফলন হয়েছে এ জেলার কৃষকের রোপা আউশের। তাই দেখা যাচ্ছে কৃষকের মুখে হাসি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের (খামার বাড়ি) উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম জানান, জেলায় এ বছর আউশ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩৬ হাজার হেক্টর জমিতে। কিন্তু এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আবাদ করেছেন কৃষক, গত বছর ফলন ভালো হওয়ায় এবং আশানুরূপ মূল্যে ধান বিক্রি হওয়ার কারণে। তিনি জানান, এ বছর জেলায় ৪৭ হাজার ৫৭৩ হেক্টর জমিতে আউশের আবাদ হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১২ হেক্টর বেশি।

কৃষকরা জানান, প্রতি বছর বৈশাখ মাসের মাঝামাঝি থেকে শুরু করে জ্যৈষ্ঠ মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত আউশ ধান রোপণ করেন। এ বছর কৃষকরা বিরি-৪৮ ও বিরি-২৭ দুই জাতের ধান রোপণ করেছেন। আউশের তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি যদিও শুরুতে ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ আঘাত হেনেছিলো।

শ্রাবণ মাসের শুরুতে ফের টানা ভারী বর্ষণে আউশের ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যায়। এতে ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন কৃষক। কিন্তু পানি দ্রুত কমে যাওয়ায় শঙ্কা কেটেছে। এখন ক্ষেতজুড়ে সবুজের সমারোহ।

কৃষকরা আরো জানান, ধান কাটার উপযোগী হবে সপ্তাহখানেকের মধ্যেই। ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলতে থাকে ধান কাটা শুরু হওয়ার পর থেকে।

সদর উপজেলাসহ বরগুনার ছয়টি উপজেলাতেই আউশের আবাদ হয়। দোফসলি কৃষিবিভাগের সহায়তা ও পরামর্শে সময়মত জলাবদ্ধতা নিরসন হওয়ায় ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন। এছাড়াও দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে, যথাসময়ে কৃষকরা সার কীটনাশক সরবরাহ করেছে কৃষি বিভাগ। বরগুনা সদরের বুড়িরচর, নলটোনা, এম বালিয়াতলী, ঢলুয়া, বদরখালি, আয়লা পাতাকাটাসহ বিভিন্ন এলাকার জমিতে আউশের চাষাবাদ হয়।

সদরের খাজুরতলা এলাকার কৃষক জাকির হোসন প্রতিবছর ছয় একর জমিতে আউশের আবাদ করেন। গতবার দাম বেশি পাওয়ায় এবার ১০ একর জমিতে আউশের আবাদ করেছেন। জাকির বলেন, এবার বেশি জমিতে আউশ লাগাইছি, যেইরহম বইন্যা বাদল শুরু অইছিল, মনে হরছি ধান আর ওডবেনা ঘরে। তয় এহন দ্যাকতে আছি যে অবস্থা, ধান ভালোই পাওন যাইবে, লস অইবে না। দাম ভালো থাকলে লাভও হবে বেশ।

আমতলী উপজেলার হলদিয়া, আঠারগাছিয়া, আমতলী সদর, হলদিয়া, চাওড়া, আমতলী সদর, কুকুয়া, আড়পাঙ্গাশিয়া ও তালতলীর পচাকোড়ালিয়া, শারিকখালী, কড়াইবাড়িয়া, ছোটবগী ও বড়বগী ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকায় আউশের চাষাবাদ হয়। গতবার দাম বেশি থাকায় এসব এলাকায় আবাদ বেশি হয়েছে। ওই এলাকার কৃষকরা জানিয়েছেন, জলাবদ্ধতা কাটিয়ে আউশ যেভাব মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে, দাম ভালো পেলে লাভ হবে, তবে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

চাওড়া ইউনিয়নের কাউনিয়া গ্রামের কৃষক আজিজুল হক মৃধার ভাষ্যমতে, আউশ ক্ষেতে বীজ বপনের সময় ইয়াস বন্যায় ক্ষেত নষ্ট হয়েছিল। তারপর আবার যখন শীষ আসবে তখন থেকেই ক্ষেত তলিয়ে ছিল, তবে পানি নেমে যাওয়াতে এখন আবার মাথা খারা করে ক্ষেতে শীষ ধরেছে। তাদের লাভ বেশি না হলেও লস হবে না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বরগুনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আবদুর রশীদ জানান, এ বছর আউশ আবাদ হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১২ হাজার হেক্টর বেশি জমিতে।

গত মৌসুমে কৃষকরা আউশ ধান আবাদ ঝুঁকেছেন বাজারে ধানের দাম বেশি থাকার ফলে। কিন্তু আবাদে কিছুটা ক্ষতি হয়েছিল ইয়াস ও বর্ষণে, তবে কৃষককে আমরা সব ধরণের সহায়তা দিয়েছি। যে কারণে লাভের মুখ দেখবেন কৃষক ক্ষতি কাটিয়ে উঠার মাধ্যমে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*