নাটোর ও পাবনার কৃষকদের সমস্যা শুনলেন জেলা প্রশাসক

কৃষির সামগ্রিক মানোন্নয়ন এবং আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে কৃষি কাজের বিভিন্ন দিক নিয়ে নাটোর ও পাবনা জেলার কৃষি উদ্যোক্তাদের সাথে মত বিনিময় করলেন নাটোরের জেলা প্রশাসক।  গত ১৪ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে এক ‘মত বিনিময়’ সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় কৃষকদের পক্ষ থেকে নানা হতাশার কথা উঠে আসে। উৎপাদিত ফসলের মূল্য আগে থেকে নির্ধারিত না থাকা, কাঁচামাল সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকা সহ বিভিন্ন কারণে নিজেদের নানামুখী ক্ষতির কথা তুলে ধরেনকৃষকরা । সভায় ফসলের ইন্সুরেন্স চালুর পাশাপাশি ৮০% কৃষকের দেশে সংসদসহ সকল ক্ষেত্রে কৃষক প্রতিনিধি রাখার জোর দাবি জানান দুই জেলার কৃষি উদ্যোক্তারা।

অনুষ্ঠানে নাটোরের আলোচিত কৃষি উদ্যোক্তা ও ফল গবেষক সেলিম রেজা কৃষি এবং কৃষকের নানা সমস্যা তুলে ধরেন। তিনি বলেন,” আমরা বিভিন্ন সময় দেখি কারো পুকুরের মাছ বিষ দিয়ে মেরে ফেলা হযচ্ছে, আবার অনেকের বাগানের গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। । কিন্তু এসব বিষয় কৃষকরা কোন প্রতিকার পায় না।”

তিনি আরও বলেন, ” অনলাইনে ফেসবুক এবং ইউটিউবে নানা লোভনীয় বিজ্ঞাপন আর প্রচারণার মাধ্যমে বিদেশ থেকে আমদানি করা অপরীক্ষিত বিভিন্ন ফল এবং গাছের চারার প্রচার (বিক্রি) করা হচ্ছে। যার ফলে অনেক কৃষক এবং নতুন নতুন উদ্যোক্তারা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। পাচ্ছেন না কাঙ্ক্ষিত ফলন । ফলে দেশের সার্বিক কৃষি এবং অর্থনীতি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।”
এগুলোর প্রতিকার চেয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

সভায় অংশগ্রহনকারী আরেক কৃষি উদ্যোক্তা আফাজ আলী পেয়ারা চাষ নিয়ে  নানা সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। বলেন,  কৃষকেরা তাদের প্রাপ্য সম্মান না পাওয়া ও নানা মহলের অসহযোগিতার কারণে অনেক সময় হতাশ হয়ে পড়েন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নাটোরের জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ। এসময় উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নাদিম সারওয়ার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) বেলাল হোসেন, জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কার প্রাপ্ত কৃষি উদ্যোক্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কৃষকরা।

সভাপতির বক্তব্যে নাটোরের জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ কৃষি’র মানোন্নয়ন এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কৃষি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে তার পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি কৃষকদের এই নানামুখী সমস্যা ও হতাশার কথা বিভাগীয় কমিশনারের সাথে দ্রুতই আলোচনা করবেন বলে কৃষকদের প্রতিশ্রুতি দেন।

নিয়মিত কৃষকদের নিয়ে এমন আয়োজন দেশের প্রতিটি জেলাতেই হওয়া দরকার বলে মনে করেন সভায় অংশগহ্রহণকারিরা। তাহলে উঠে আসবে কৃষি এবং কৃষকের না বলা নানান কথা। সমস্যা সমাধানে বের হবে উপায়।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*