পৃথিবীর অন্যতম দামি ও পুষ্টিকর ফল অ্যাভোকাডো চাষ হচ্ছে মাদারীপুর হর্টিকালচার সেন্টারে। এর বাণিজ্যিক চাষের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন কৃষি গবেষকরা। এটির চাষ সম্প্রসারণে প্রযুক্তি কৃষকদের মাঝে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে এই হর্টিকালচার সেন্টার।
বছর তিনেক আগে মাদারীপুর হর্টিকালচার সেন্টারে মোট তিনটি অ্যাভোকাডো চারা রোপন করা হয়। একটি চারা মারা যায়। আর বাকি দুৃটি গাছে এবারে ধরেছে প্রায ২০০টির মত ফল। এই ফল চমক সৃষ্টি করেছে এলাকার মানুষের কাছে।
১০ ফুট উচ্চতার একটি গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে চকচকে সবুজ রঙের অ্যাভোকাডো। দেখতে অনেকটা পেয়ারা বা নাশপাতির মতো। একেকটির ওজন প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম। পাতার ফাঁকে হাওয়ার সঙ্গে দোল খাচ্ছে ফলগুলো। একটি থোকায় দুই থেকে তিনটি করে ফল। এই ফল ও গাছ ঘিরে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। বাগানের পাশ দিয়ে গেলে অনেকেই দাঁড়িয়ে দেখেন ফলগুলো। আগ্রহ প্রকাশ করেন চারা কিনে রোপণের।
তবে ফলটির সঙ্গে এখনো পরিচিত নন বাংলাদেশের অধিকাংশ অঞ্চলের মানুষ। অথচ পৃথিবীর দামি ফলগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। ফলটি ঔষধি গুণাগুণে ভরপুর। তাই চারা তৈরির মাধ্যমে ফলটির বাণিজ্যিক চাষে জন্য কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা আছে মাদারীপুর হর্টিকালচার সেন্টার কর্তৃপক্ষের।
কর্মকর্তারা বলছেন, অ্যাভোকাডো ফলের জন্মস্থান মেক্সিকো ও গুয়াতেমালা। পরে আমেরিকা ও ক্যারাবিয়ান দেশগুলোতে এটির বিস্তার ঘটে। বাংলাদেশে অ্যাভোকাডোর গাছ আছে মাত্র ১৫ থেকে ২০টি। তবে, ব্যক্তিগত পর্যায়ে অনেক এর চাষ করতে শুরু করেছেন। বিভিন্ন নার্সারিতেও মিলছে চারা। ২০১৮ সালে তিনটি গাছ রোপণ করা হয় এখানে। এর মধ্যে একটি মারা যাওয়ায় আছে মাত্র দুটি। দুটি গাছে দুই শতাধিক ফল এসেছে। গাছগুলোর আকার ছোট। সাধারণত কলমের চারায় পাঁচ বছর পর ও বীজের চারায় আট বছর পর ফল ধরে। কিন্তু মাদারীপুর হর্টিকালচারের মাটি অ্যাভোকাডো চাষের উপযোগী হওয়ায় ২-৩ বছরেই ফল ধরেছে।
এবার বিশেষত এ গাছের পরিপক্ব ফল দেশেই পাওয়া যাবে। এখানে এক একটি অ্যাভোকাডোর ওজন হয়েছে ৪০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি পর্যন্ত। তাছাড়া কয়েক বছরের মধ্যে এটি বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হর্টিকালচার সেন্টারে অ্যাভোকাডোর চারা সম্প্রসারণের কাজ চলমান রয়েছে। একসময় সারাদেশে এ ফলের চারা বিস্তার করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন এখানকার উদ্যানতত্ত্ববিদরা।
মাদারীপুর হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক চেয়ারম্যান এস এম সালাহউদ্দিন জানান, অ্যাভোকাডো ফলটি একটি উচ্চ মূল্য ও অধিক পুষ্টিসম্পন্ন একটি ফল। এতে ২২ প্রকারের ভিটামিন ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান রয়েছে। এতে রয়েছে ক্যানসার প্রতিরোধী উপাদান। ডায়াবেটিস রোগীদের বিশেষ ওষুধ হিসেবে কাজ করে এটি। যেভাবে দেশে ডায়াবেটিস রোগী বাড়ছে, তাতে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ফল হবে এটি। মাদারীপুর হর্টিকালচারে দুটি গাছে এখন ফল ধরছে। আমরা এখানে কলম ও বীজ থেকে চারা তৈরির মাধ্যমে সাধারণ চাষিদের কাছে অ্যাভোকাডো পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করছি।

Be the first to comment