হরেকরকম সবজি আর ফলের জন্য বিখ্যাত নরসিংদীর চাষীরা সফলতা পেয়েছেন বিদেশী ফল রাম্বুটান চাষে। প্রচলিত ফল কলা-লটকনের পাশাপাশি নতুন এ ফল চাষাবাদে ব্যপক আশাবাদি এখানকার চাষীরা। প্রয়োজনীয় সহায়তা ও দিক নির্দেশনা পেলে আগামীদিনে জেলার কৃষি অর্থনীতিতে নতুনত্ব যোগ করতে পারে থাইল্যান্ডের এ বিখ্যাত ফল রাম্বুটান।
জানা যায়, শিবপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের অষ্টানী গ্রামের রাম্বুটান চাষী জামাল উদ্দিনের হাত ধরেই নরসিংদীতে আসে রাম্বুটান। অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা ফেরাতে দীর্ঘ ১৫ বছর প্রবাসে কাটান জামাল উদ্দিন। সব শেষে ২০০৬ সালে ব্রুনাই থেকে বাড়ী ফেরেন। ফেরার সময় পরিবারের খাবারের জন্য নিয়ে আসেন ২ কেজি রাম্বুটান ফল। আর এ ফলের বীজ থেকেই চারা তৈরী করে শুরু করেন রাম্বুটানের মত দামী ফলের চাষ।
চারা রোপনের ৪ বছর কোন ফলের দেখা না পেলে প্রতিবেশীরা এটাকে জংলি গাছ আক্ষায়ীত করে কেটে ফেলার পরামর্শ দেন। জামাল উদ্দিন কারো কথা না শোন তার ধৈর্যের ফল পান এর পরের বছরই। চারা রোপনের ৫ বছর পর অল্প কিছু ফল গাছে ধরলে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হয়। এর পরের বছর থেকে ফলন বাড়তে বাড়তে এখন তার ১০ টি গাছ। এর মধ্যে ৩ টি গাছে প্রায় প্রতি বছরই ফল ধরছে।
বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম আর গণমাধ্যমের সুবাদে জামাল উদ্দিনের রাম্বুটানের খবর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে চারা কিনতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন অনেকে। জামাল উৎপাদন করছেন রাম্বুটানের চারা। একেকটি চারা বিক্রি করছেন ৩ শত থেকে ৫ হাজার পর্যন্ত। চারা বিক্রি করছেন অনলাইনেও। কুরিয়ারের মাধ্যমে ফল ও চারা পাঠিয়ে দিচ্ছেন দেশের বিভিন্ন জেলায়।
কম খরচ, উপযোগি আবহাওয়ার পাশাপাশি অনেক লাভজনক হওয়ায় সম্প্রসারণ করছেন বাগান। জামাল উদ্দিনের সফলতা সাড়া ফেলেছে এলাকার অন্যান্য চাষীদের মাঝে। তারাও আগ্রহ প্রকাশ করছেন বিদেশী ফল রাম্বুটান চাষে। এলাকা ও এলাকার বাইরের চাষীরা চারা সংগ্রহ করে গড়ে তুলছেন নতুন নতুন বাগান। এতে করে উদ্ভাবনী এ ফলের আবাদী জমির সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে দিন দিন।
জামাল উদ্দিন বলছেন, প্রথমবার তার বাগানে একটি গাছে মাত্র ১০টি ফল ধরে। পরের বছর তিনি বিক্রি করেন ২০ হাজার টাকার ফল। এরপরের বছর থেকে ৫টি গাছে ফল হচ্ছে নিয়মিত।
জেলার কৃষি বিভাগ বলছে, বিদেশী এ ফলের ব্যপক চাহিদা রয়েছে বাংলাদেশ সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। রয়েছে অনেক পুষ্টিগুনও। ফলের আকার পর্যবেক্ষণে নরসিংদীর মাটি অধিক উপযোগি হওয়ায় চাষ সম্প্রসারণে পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ছাইদুর রহেমান।জানান, এই ফল চষে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। আগামীতে এই ফল নরসিংদীর কৃষিতে বিপ্লব ঘটাবে বলেও প্রত্যাশা এই কর্মকর্তার।
বর্তমানে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার পাইকারী ক্রেতারা ৮শত থেকে ১ হাজার টাকা কেজি দামে গাছ থেকে সংগ্রহ করছেন। আর আকার বেধে প্রতিটি গাছের চারা বিক্রি হচ্ছে ৩শ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।

Be the first to comment