দুধ উৎপাদনে আগামী দুই বছরের বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পুর্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন মৎস্য ও প্রানীসম্পদ মন্ত্রী শ.ম রেজাউল করিম। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে এই আশার কথা জানান মন্ত্রী।
মন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, গত ১২ বছরে বর্তমান সরকার পরিচালনাকালে দেশি মাছ উৎপাদন ৪গুন বৃদ্ধি পেয়েছে যে মাছগুরো আগে খালে বা বিলে হতো। ৩০ প্রকারের বিলুপ্ত মাছ ফিরিয়ে আনা হয়েছে গবেষনার মাধ্যমে। এসব সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই খাতে গবেষণার নির্দেশনা দেয়ার কারণে। এসব গবেষণায় এমন সব সাফল্য এসেছে যা আগে কল্পনাও করেননি বলে জানান মন্ত্রী। এই সাফল্য এসেছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে।
মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ইলিশ উৎপাদনে এখন বিশ্বে প্রথম, মুক্ত জলাশয়ে মাছ উৎপাদনে দ্বিতীয়, বদ্ধ জলাশয়ে মাছ উৎপাদনে পঞ্চম স্থানে আছে। বড় বড় রাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশ এই অবস্থানে এসেছে। করোনায় যখন খামারিরা দুধ ফেলে দিচ্ছিলো, মুরগির বাচ্চা গর্তে ফেলে দিচ্ছিলো তখন ভ্রাম্যমান বিক্রয় কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রায় ৯স হাজার কোটি টাকার এই জাতীয় পণ্য বিক্রি করা সম্ভব হয়েছে।
প্রান্তিক পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্থ প্রায় ৪ লাখ খামারিকে ৫৬২ কোটি টাকা প্রণোদনা দেয়া হয়েছে। আরো ২ লাখ খামারিকে প্রণোদনা দেয়ার বিষযটি এখন প্রক্রিয়াধীন বলে জানান শ.ম রেজাউল করিম।
গত দুই বছরে ভারত বা মিয়ানমার থেকে কোনো পশু আনতে হয়নি। এবছরও ১কোটি ১৯ লাখ পশু কোরবানীর জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানান প্রাণী সম্পদ মন্ত্রী। কোরবানীর পর পশু উদ্বৃত্ত থাকবে বলে জানান মন্ত্রী। সরকারের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতার কারণে এটা সম্ভব হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
বেকারত্ব দূর করা, উদ্যোক্তা তৈরি করা, দরিদ্র অসহায় মানুষকে সহায়তার মাধ্যমে মাছ, মাংস, দুধ-ডিম উৎপাদন প্রক্রিয়ার মধ্যে আনা হয়েছে। আজকাল অনেক বেকার যুবক গর্ব করে বলেন আমি একজন উদ্যোক্তা।
মন্ত্রী বলেন, মাছ ও মাংসে এখন বাংলাদেশ স্বয়ং সম্পূর্ন। ডিমে প্রায় স্বয়ং সম্পূর্ন। দুধ উৎপাদনেও আগামী দুই বছরে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পুর্ণ হবে বলে আশা করেন মন্ত্রী। এসব পন্য প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষরা যেন সহজে বিক্রি করতে পারে, এথেকে বিভিন্ন খাদ্য পন্য তৈরি করতে পারে এবং সেই পন্য রপ্তানি করতে পারে সেই প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান মন্ত্রী।
বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত স্বপ্ন বাস্তবায়নে বাংলাদেশ তার কন্যার নেতৃত্বে অপ্রতিরোধ্য গতিতেই এগিয়ে যাবে বলে মনে করেন মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী।
পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুযালি যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

Be the first to comment