শীত ও কুয়াশায় বোরো বীজতলা ভালো রাখার উপায়

তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় উত্তরাঞ্চলের বেশ কটি জেলায় ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বোরো ধানের বীজতলা। অনেক জায়গায় বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। চারাগুলো সবুজ থেকে হলুদ হয়ে যাচ্ছে। এই সমস্যা বাড়লে বোরো চাষে লক্ষ্যমাত্রা পুরণ করা কঠিন হবে।

নীলফামারীতে টানা শীতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বোরো বীজতলা। সবুজের পরিবর্তে ধারণ করেছে হলুদ বর্ণ। পলিথিনে ঢেকেও ঘন কুয়াশার হাত থেকে এসব বীজতলা রক্ষা করতে পারছেনা না কৃষকরা।

গত একমাস আগে যে বীজতলায় চারা উৎপাদনের তৈরি করেছিলেন শীত ও ঘন কুয়াশায় সে বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এখন বোরো আবাদ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। তারা জানান, টানা শীত আর ঘন কুয়াশায় বিছন মরে যাচ্ছে। যে টুকু আছে তাও হলুদ বর্ণ ধারণ করেছে।

একই অবস্থা জেলা সদরের টুপামারী ইউনিয়নের শাপলাপাড়া গ্রামের কৃষক শরিফুল ইসলামের। তিনি এবার বোরো আবাদ করবেন চার বিঘা জমিতে। এ জন্য চার কেজি বীজ সংগ্রহ করে বীজতলা তৈরি করেছেন। তিনি বলেন, ‘টানা ঘন কুয়াশায় বীজতলা হলুদ বর্ণ ধারণ করে মরে যাচ্ছে। এভাবে আর কয়েক দিন চললে পুরোটাই নষ্ট হবে। এখন নতুন করে বীজতলা তৈরি করতে গেলে বোরো আবাদের সময় পেরিয়ে যাবে।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত উপপরিচালক সিরাজুল ইসলাম জানান, ‘টানা এক সপ্তাহের বেশি শৈত্যপ্রবাহ হলে বীজতলার ক্ষতি হয়। কিন্তু এবারের শৈতপ্রবাহের স্থায়িত্ব কম হওয়ায় তেমন ক্ষতি হয়নি। বর্তমানে রাতে কুয়াশা থাকলেও দিনে সূর্য তাপ ছড়াচ্ছে। কোনো বীজতলা হলুদ বর্ণ ধারণ করলেও সেটি ঠিক হয়ে যাবে বলে ধারনা তার।’ কৃষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘শীত থেকে রক্ষার জন্য বীজতলা সাদা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। রাতে সেচযন্ত্র দিয়ে মাটির নিচের গরম পানি তুলে বীজতলায় দিয়ে রাখতে হবে। পাশাপাশি কোনো বীজতলা হলুদ বর্ণ ধারণ করলে সেটি সারানোর জন্য প্রতি শতকে সাত গ্রাম ইউরিয়া এবং ১০ গ্রাম জিপসাম সার প্রয়োগ করতে হবে।’

তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণে পাবনা জেলার ৯টি উপজেলায় বোরো ধানের অধিকাংশ বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে চারা সংকটের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিকেল গড়াতেই কনকনে ঠাণ্ডা, সঙ্গে রাতভর হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশায় পাবনায় বোরো বীজতলার চারা শুকিয়ে লালচে রঙ হয়ে গেছে। এমনকি পচন রোগও দেখা দিয়েছে। কৃষকদের আশঙ্কা, তাপমাত্রা আবারও কমলে বাড়তে পারে ক্ষতির পরিমাণ। কৃষকদের দাবি, সারারাত কুয়াশার পর সকালে রোদ উঠলেই দেখা যাচ্ছে ধানগাছের চারাগুলো লাল হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। অতিরিক্ত ঠাণ্ডায় বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা এবং পরিমাণমতো সার ও পানি দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।

পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৯টি উপজেলায় এবার ৩ হাজার ৭৯৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এবার ৫৮ হাজার ১৫৪ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হবে।

পাবনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিভূতি ভূষণ সরকার বলেন, কয়েকদিনের প্রচণ্ড ঠাণ্ডা ও কুয়াশার কারণে পাবনা জেলার ৯টি উপজেলায় বোরো ধানের অধিকাংশ বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অতিরিক্ত ঠাণ্ডার কারণে বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা এবং পরিমাণমতো সার ও পানি দিলে এই ক্ষতি কমে আসবে।

কুড়িগ্রামে্ও শীত আর কুয়াশায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বোরো বীজতলা। সরেজমিনে জেলার উলিপুর, চিলমারী, রাজারহাট ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে শীতে অধিকাংশ বীজতলায় বোরো চারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিশেষ করে ১২/১৫ দিন আগে যেসব বীজতলায় বোরো চারা উৎপাদনের জন্য বীজ বপন করা হয়েছিল সেগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সম্প্রতি শেষ হওয়া মৃদু শৈত্যপ্রবাহ এবং চলমান ঠাণ্ডা ও ঘন কুয়াশার কারণে অধিকাংশ বীজতলায় বীজ থেকে চারা বের হয়ে পাতা ছাড়ার আগেই নষ্ট হয়ে গেছে। আর যেগুলো থেকে পাতা বের হয়েছে, পর্যাপ্ত সূর্যালোকের অভাবে সেগুলো বিবর্ণ হয়ে গেছে। ফলে এবারের বোরো মৌসুমে বোরো চারা সংকটের আশংকা করছেন কৃষকরা।

শীতের কারণে বোরো চারা ক্ষতির কথা স্বীকার করলেও চারা সংকটে বিষয়টি নাকচ করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর খামার বাড়ী, কুড়িগ্রামের উপ-পরিচালক ড: মো.মোস্তাফিজুর রহমান প্রধান বলেন, শীতের তীব্রতা ও কুয়াশার কারণে জেলার বোরো বীজতলার সামান্য ক্ষতি হলেও তা গত কয়েকদিনের সূর্যালোকে পুষিয়ে গেছে। এই  কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, জেলায় এবারে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে তার চেয়ে বেশি চারা রয়েছে। ফলে আবহাওয়া যদি খুব বেশি প্রতিকূল না হয় তাহলে বোরো চাষে তেমন সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*