সেই রানীর দাম উঠেছে সাড়ে ১২ লাখ টাকা

তিনি এখন বাংলাদেশের নেটিজেনদের কাছে তুমুল আলোচনায়। তার নাম রানী। না,  তিনি কোনো রাজরানী নন। তিনি  একটি গরু। হ্যাঁ, বিশ্বের সবচেয়ে ছোট গরু হিসেবে গিনেস বুকে নাম লেখাতে সাভারের রানীর মালিক নেমে পড়েছেন প্রতিযোগিতায়।

আর  গরুটি কিনতে প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েছেন অনেকে। দুদিন আগেও গরুটির দাম উঠেছিল সাড়ে ৫ লাখ টাকা। বুধবার বিকেলে কৃষি জীবনের সাথে কথা হয় গরুটির মালিক কাজী আবু সুফিয়ানের । তিনি জানান, গরুটির দাম সাড়ে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। তবে, কারা গরুটি কিনতে চাইছেন তা বলতে রাজি হননি তিনি। তিনি আরো জানান, তারা গরুটি বিক্রি করবেননা।  দেশের বাইরে থেকে দুই-একটি এজেন্সি গরুটিকে আন্তর্জাতিকভাবে নিলাম করে বিক্রির প্রস্তাব নিয়ে যোগাযোগ করছে বলেও জানান কাজী সুফিয়ান।

রানীর উচ্চতা ৫০.৮ সেন্টিমিটার (২০ ইঞ্চি), লম্বা ৬০.৫৮ সেন্টিমিটার (২৭ ইঞ্চি) রানীর ওজন ২৬ কেজি। ২০ইঞ্চি উচ্চতার ‘বক্সার ভ‚ট্টি’ জাতের ২৩ মাস বয়সী খর্বাকৃতির ‘রানী’ বিশ্বে ছোট গরুর রেকর্ডে ভারতকে পেছনে ফেলতে যাচ্ছে। আর সে কারণে রানীর মালিক হাসান হাওলাদারের শিকড় এগ্রো ফার্মে এখন উৎসুক মানুষ আর গণমাধ্যম কর্মীদের বেশ আনাগোনা। গরুটি কেনার জন্য অনেকে যোগযোগ করতে শুরু করেছেন।

সরেজিমন সাভার উপজেলার পাথালিয়া ইউনিয়নের চারিগ্রাম এলাকায় শিকড় এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এ গিয়ে দেখা মিললো রানীর। কথা হলো খামারের ব্যবস্থা হাসান হাওলাদারের সাথে।

তিনি জানান, গরুটিকে বিশ্ব রেকর্ডে জায়গা করে দিতে গত ২জুলাই গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ডে আবেদন জানানো হয়েছে। ওই আবেদনের পর গিনেস বুক কর্তৃপক্ষ একটি রিপ্লাইও দিয়েছে। গিনেস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে তাদের নিজস্ব কিছু প্রক্রিয়া রয়েছে। ওই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই তারা আগামী ৯০ দিনের মধ্যে পরবর্তী কার্যক্রমগুলো শেষ করে সিদ্ধান্ত জানাবেন এবং দেখতে আসবেন।

তিনি বলেন, ইন্টারনেট ঘেটে তারা জানতে পেরেছেন, বিশ্বের সবচেয়ে ছোট গরুটি রয়েছে ভারতের কেরেলা রাজ্যে। ৪ বছর বয়সী ওই গরুটি লাল রঙের। যেটির উচ্চতা ২৪ ইঞ্চি (২ ফুট), ওজন ৪০ কেজি, গরুটির নাম ‘মানিকিয়াম’। ভারতের গরুটি ল্যাব্রাডার কুকুরের চেয়েও ছোট। দক্ষিণ ভারতের রাজ্য কেরালার আথোলিতে বাস মানিকিয়ামের। এর মালিক অক্ষয় এনভি নামের এক ব্যক্তি।

শিকড় এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মোঃ আবু সুফিয়ান জানান, ২৩ মাস বয়সী খর্বাকৃতির রানীকে প্রায় ১১মাস আগে নওগাঁর বাবু নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ক্রয় করে এনেছিলেন। গরুটিকে দিনে দুই বেলা খাবার দিতে হয়। সাধারণ গরুর তুলনায় এটির খাবারও অনেকটা কম লাগে।

সাভার উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা: সাজেদুল ইসলাম জানান, গরুটি এখানে আনার পর থেকেই আমরা দেখভাল করছি। ছোট্ট এই গরুটির শারীরীক কোন সমস্যা নেই। এর উচ্চতা এবং ওজন আর বাড়ার সম্ভাবনা নেই।
তিনি আরও বলেন, ভুট্টি জাতের গরু সাধারনত এতো ছোট হয় না। কিন্তু এই গরুটি খুবই ছোট। তাই এটিই হতে।

শিকড় এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপক আরও জানান, লীজ নিয়ে সাড়ে ৫একর জমিতে ৫বছর আগে এই ফার্মটির কার্য্যক্রম শুরু হয়। তাদের আরেকটি শাখা রয়েছে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে।

তাদের এই ফার্মে গয়াইল, শাহী গয়াইল, দেশাল, হাসা, মিরকাদিম, ভুট্টি, আমেরিকান ভ্রাঙ্গাস, ফ্রিজিয়ান, ভ্রামা, রেড চিটাগাংসহ বিভিন্ন জাতের আরও ১৫২টি গরু রয়েছে।

এছাড়া ভারতের রাজস্থানের তোতাপড়ি, পাহাড়ী গাড়ল ও দেশী জাতের ৭৫টি ছাগল রয়েছে। এছাড়াও শখের বসে বিভিন্ন জাতের পাখি, কবুতর ও হাসপালনের কথাও জানান তিনি।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*