সুমিত্রা একাই করেন অনেক কাজ

ঠাকুরগাঁওয়ের সুমিত্রা রানী।

দুর্গাপূজার আয়োজন চলছে ঠাকুরগাঁওয়ের সদর উপজেলার শ্রীখাড়ি গ্রামের চারদিকে। গ্রামের সনাতন ধর্মাবলম্বী নারীদের ব্যস্ততা পূজাকে ঘিরে। তবে সুমিত্রা রানীর (৩৬) ব্যস্ততা কিছুটা ভিন্ন। সড়কের পাশের আমনখেতে কীটনাশক ছিটাচ্ছিলেন তিনি।

গতকাল বুধবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও-পাটিয়াডাঙ্গী সড়কের পাশে পাওয়া গেল তাঁকে। কাছে যেতেই হাসি মুখে সম্বোধন জানালেন সুমিত্রা। জমিতে চাষ দেওয়া থেকে সার-কীটনাশক ছিটানো, বীজ বপন থেকে ফসল তোলা—সবই নিজ হাতে করেন তিনি।

সুমিত্রা জানালেন, ১৭ বছর আগে ওই গ্রামের সাগর রায়ের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের পর ভালোই কাটছিল তাঁদের দিন। কিন্তু হঠাৎ তাঁর স্বামী মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়লেন। সুমিত্রা তখন দিশেহারা হয়ে পড়েন। তবে শোককেই শক্তিতে পরিণত করলেন তিনি। নিজেদের দেড় বিঘা জমিতে একাই চাষাবাদ শুরু করলেন সুমিত্রা। মৌসুমভেদে এসব জমিতে ধান, আলু ও ভুট্টার ফলন হয়।

সুমিত্রা বলেন, ‘ঐ দিন জমি চাষ শুরু না করিলে, আইজ যে হামার কী হইতো, তা ভাবিবা পারছুনা। জমিত ফসল করিয়াই হামার সংসার চলে যাছে। এইলা যুদি না করতাম, তবে ছুয়ালাক (ছেলেদের) কী পড়াবা পারতাম! ছুয়ালাক মুই পড়াতে চাউ। এতানেই কষ্ট করছু।’

কথা বলতে বলতেই সুমিত্রা আবার কীটনাশক ছিটানো শুরু করলেন। প্রথম দিকে কীটনাশক ছিটানোর সময় গন্ধে তাঁর মাথা ঝিম ধরে আসত। কখনো বমি–বমি ভাব হতো। তবে কিছুদিনের মধ্যেই তা সয়ে যায়।

হাতের কাজ শেষ করে সুমিত্রা তাঁর বাড়িতে নিয়ে গেলেন। বারান্দায় সুমিত্রার দুই ছেলেকে নিয়ে তাঁর শাশুড়ি বসে ছিলেন। সুমিত্রার দুই ছেলে রবিন আর জীবন জানালো তাঁরা বড়দেশ্বরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ছে।

কথায় কথায় সুমিত্রার শাশুড়ি তরু বালা বলেন, সুমিত্রা একাই দশ হাতের কাজ করে। ঘরের কাজ, ক্ষেতের কাজ—সব কিছু একাই করে।

তখন সুমিত্রা বলেন, ‘খাটে-খুটে চলে যাছে সংসার। মানুষের ঠে হাত পাতিবা যে হচেনা, এই খানই বড় কথা।’

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*