দিনাজপুরে সৌদি খেজুরের রঙ ছড়াচ্ছে মুগ্ধতা

দিনাজপুরে সৌদি খেজুরের চাষ

 আজওয়া, মরিয়মসহ সৌদি আরবের বিখ্যাত সব জাতের খেজুর চাষ হচ্ছে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে। উপজেলার স্বজনপুকুর গ্রামে কুয়েত প্রবাসী উদ্যোক্তা জাকির হোসেনের খেজুর বাগানে এখন শোভা পাচ্ছে থোকায় থোকায় পাকা খেজুর। আর সেই খেজুরের রঙে মুগ্ধ মানুষ ভির করছেন তার বাগানে।

বাগানে রয়েছে আজওয়া, মরিয়ম, বার্গি, আমবার, মেরজন, খরিনি জাতের মিষ্টি ও সুস্বাদু খেজুর। ইতিমধ্যেই তাকে বানিজ্যিকভাবে খেজুর চাষে সবধরনের সহযোগীতার  প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দিনাজপুর কৃষি বিভাগ ।

ফুলবাড়ী পৌর এলাকার স্বজনপুকুর গ্রামে কুয়েত প্রবাসী মো. জাকির হোসেনের খামারে এখন বিভিন্ন জাতের সৌদী খেজুরের আবাদ হচ্ছে। ২০ বছর মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কুয়েতে ছিলেন তিনি । সেখানে থাকাকালীন পরিকল্পনা করেন দেশের মাটিতে কীভাবে খেজুরের চাষ করা যায়। এক পর্যায়ে দেশে আসার সময় ১২ কেজি খেজুর কিনে এনে দেশে চারা করার চেষ্টা করেন এবং এতে তিনি সফলও হন। বর্তমানে তার এ বাগানে রয়েছে মরিয়ম, আজওয়া, খলিজি, মেরজন ও আম্বার জাতের খেজুর গাছ। ইতিমধ্যে ফলও এসেছে এসব গাছে। এমন খবরে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষজন আসছেন জাকির হোসেনের খেজুরের বাগান দেখতে।

যারা বাগান দেখা শুনে করেন তারা বলছেন, এ খেজুরের চারা লাগিয়ে খুব একটা পরিশ্রম করতে হয় না। বাগানে তেমন কোনও বিশেষ যত্নও নিতে হয় না, তবে আর্বজনা পরিস্কার, জৈবসার ও পানির সঠিক প্রয়োগ থাকলে সুন্দর গাছ এবং ফলন পাওয়া যায়।

বাগান মালিক জাকির হোসেন জানান, কুয়েত থাকাকালিন ইচ্ছে ছিল নিজ দেশে খেজুরের আবাদ করবো। আল্লাহর রহমতে আমার সে ইচ্ছে পুরন হয়েছে। ২০২০ সালে আমার ২০ শতাংশ জমিতে রোপন করা ১৯ টি খেজুর গাছে এখন ফল এসেছে। খেজুরগুলো গোলাকার ও লম্বা। প্রত্যেক গাছের এক একটি গোছায় ৪০০-৫০০ খেজুর ধরেছে। আবাদের পরিধি আরও বাড়াতে ইতোমধ্যে আরও ১ হাজার খেজুর গাছের চারা তৈরী করেছেন জাকির ।

জাকির বলেন,  প্রথম আমার খেজুর বাগানের গাছে এখন ফল এসেছে। আলহামদু লিল্লাহ, কুয়েতে থাকা অবস্থায় দেশে খেজুরের বাগান করার যে স্বপ্ন ছিলো, তা বাস্তবায়ন করতে পেরে আমি খুব খুশী। আমার বাগানের খেজুর গুলো খুব মিষ্টি এবং সুস্বাদু হয়েছে।

এ ব্যাপারে দিনাজপুর ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. রুম্মান আক্তার বলেন, খেজুর বাগান তৈরীর পরিক্ষামুলক আবাদে তিনি সফলতা লাভ করেছেন। দেশীয় বাজারে এ খেজুরের চাহিদা থাকায় আমরা আশাবাদী। উদ্যোক্তা জাকির হোসেন বাণিজ্যিকভাবে যদি সৌদি আরবের এ খেজুর চাষাবাদ করেন তাহলে তিনি লাভবান হবেন। এতে করে আমরা তাকে আগামীতে খেজুরের আবাদ বৃদ্ধিতে পরামর্শসহ সরকারের বিভিন্ন সুযোগসুবিধা প্রদানের চেষ্টা করবো।

বাংলাদেশেসহ বিশ্বের মুসলিম দেশগুলোতে রমজান মাসে ইফতারে সৌদি খেজুরের জনপ্রিয়তা অনেক। বাংলাদেশে রমজান উপলক্ষে প্রতি বছর আমদানি করা হয় কয়েক প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টন খেজুর। তবে, গত কয়েক বছরে সৌদি আরবের বিভিন্ন জাতের খেজুর বাংলাদেশেই চাষ হচ্ছে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই খেজুর পাকেনা। তবে, কাঁচা খেজুর ভালো দামে বিক্রি হয়। তাই চাষিরা লাভের মুখ দেখছেন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*